ছবি: লেখক
আমি কে? কেন আছি? কোন কারণে আছি? যাহা আছে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে তাহা আছে এই দেহ ভান্ডারে। অর্থাৎ এই পুরো মহাবিশ্বের সৃষ্টির রহস্য এবং রহস্যের সন্ধান ও স্রষ্টার সন্ধান মানুষের শরীরের ভিতরেই পাওয়া সম্ভব। সৃষ্টির শুরু থেকে মানবপ্রজাতি সৃষ্টির রহস্য ভেদ করতে রত তা নানারকম নিরীক্ষা দেখলে অনুধাবন করা যায়। এই বিশ্ব সৃষ্টি থেকে অনুজীব এবং তার গতিশীলতা এক মহাযজ্ঞ বলা চলে। হোমোসেপিয়েন্স থেকে আজ অবধি আধুনিকতার চরম উৎকর্ষের প্রান্তে এসেও মানব প্রজাতি নিজের অস্তিত্বের চলন কে প্রতিনিয়ত খুঁজে ফেরে। ফিরে পাই নানা প্রশ্ন। আমি কে? নিজের উপস্থিতি কে নানা প্রয়োগ মাধ্যমের ভেতর দিয়ে খুঁজতে থাকে। আবার মানব ও মানবীর খুঁজে ফেরার মধ্যেও নানা আঙ্গিক থাকে। সৃষ্টি এখানে মূলসূত্র। সৃষ্টি, তা প্রকৃতির নিয়মে অথবা নিজেকে খুঁজে ফেরে ভিন্ন ভিন্ন ভাষা ব্যবহার করে।

"অস্তিত্বের দহন থেকেই সৃষ্টির আলো জন্ম নেয় "
-জীবনানন্দ দাশ
এমনই নানা প্রশ্নের মুখোমুখি নবীন শিল্পী বুবলি বর্ণা।" বিচ্ছিন্ন অস্তিত্বে অবিচ্ছন্ন সত্তা "শিরোনামে সংস্থাপন শিল্পকর্ম গুলো দেখলে তেমনি মনে হয়। শিল্পী নবীন এবং স্বদেশে তার প্রথম প্রদর্শনী, কিন্তু শিল্পকর্মের মধ্যে আত্ম অনুসন্ধানীর ধরন কিন্তু নবীনের মতো নয়, তা বেশ প্রাচীন আবহাওয়া তৈরি করে। শিল্পী বর্ণা মানব শরীরের নানা অঙ্গ কে কখনো রূপক, কখনো স্পষ্ট, বা সম্পর্কের গভীরতার মধ্য দিয়ে প্রকাশ করেছেন। শিল্পীর একাডেমিক ধারার কাজ দেখলে বোঝা যায় প্রথম থেকেই নিরীক্ষণ ধর্মীতা তার চিন্তার জগতকে স্বস্তি দেয়। শিল্পীর শিল্প ভাষা প্রয়োগের জন্য শুধুই প্রচলিত রং ক্যানভাসের মধ্যে আটকে রাখেনি, এবং প্রাচ্যে দাঁড়িয়ে পাশ্চাত্যের শিক্ষা গ্রহণ করলেও স্বদেশের প্রচলিত সূচি কর্মের মাধ্যমে নিজের অস্তিত্বকে জানান দিতে ভোলেননি।

"যে নিজের অস্তিত্বকে বোঝে, সে আর কাউকে নকল করে
না "
- লালন ফকির
অস্তিত্ব এবং সত্তা অভিন্ন সম্পর্কের হলেও প্রয়োগিকভাবে ভিন্নতার রূপ নেয়। নিজের উপস্থিতিকে স্থাপিত করতে সবাই ছুটছে কিন্তু শিল্পের বোধ কাজে লাগিয়ে শিল্পী বর্ণা গ্যালারী কলাকেন্দ্রের বিভিন্ন কোন কে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।মাধ্যম হিসেবে কাপড়, তুলা, সুই, সুতার, ব্যবহারের মধ্য দিয়ে আত্ম উপস্থিতির বয়ান রচনা করছেন। শিল্পীর "who is going to cook in heaven "অথবা "the body between us "শিরোনামের শিল্পকর্মগুলো বেশ আত্ম জিজ্ঞাসার মুখোমুখি দাঁড় করায়। শিল্পে মাধ্যম সব সময় কিছু বক্তব্য পেশ করে সাথে বর্ণ ও নিজের অস্তিত্বকে জানান দেয়। শিল্পীর কর্মে লাল বর্ণের আধিক্য কি কোন সংকেত প্রদান করছে নাকি এক পুরুষ শাসিত পৃথিবীকে নারী হয়ে উপস্থিতির প্রতিবাদ। নারী একটি ভিন্ন সত্তা যে কিনা বিচ্ছিন্নভাবে আবিষ্কার করে নতুন আগমনের ভিতর দিয়ে ফলে কাপড়ের ভাঁজে ভাঁজে বিচ্ছিন্নতা থাকলেও শিল্পকর্মের প্রশস্ত হাত অবিচ্ছন্ন সত্তাকে খুঁজে পাই,বলে মনে হয়। স্বর্গের রান্নাঘরে প্রবেশ করলে এক মায়াময়তার মধ্যে হেঁটে বেড়ানো যায়।

"অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন করলেই আত্ম জিজ্ঞাসা শুরু হয় "
- হুমায়ুন আজাদ
আত্ম জিজ্ঞাসাহীনতা মানেই শূন্যতা, কোন কিছুর উপস্থিতি অর্থই প্রশ্ন এবং তার সমাধান। শিল্পী বর্ণা নিজেকে প্রশ্ন ছুড়ছেন এবং উত্তর দিলেন প্রদর্শনীর শিল্প কর্মের মধ্য দিয়ে চলুক এই সত্তার সন্ধান এবং তা শিল্পের ভাষায়।
লেখক : চিত্র শিল্পী