সাম্প্রতিক ছড়া
ছবি: গ্রাফিকস ধ্রুব নিউজ/এ আই
লোডশেডিংয়ের ভূত
যান জটে চলা দায়
হই চিড়া চেপ্টে
শরীরের সাথে শার্ট
ঘেমে যায় লেপ্টে।
ইশ্ পিশ্ করে মন
তেষ্টায় ফাটে বুক
হাত নাড়ে কত কী
নীরবে তা করি লুক।
আশা নিয়ে ছাড়ি যেই
সিলিঙের ফ্যানটা
লোডশেডিংয়ের ভূত
নাচে তাক ধিনতা।
দূর ছাই ধুৎ!
গেল বিদ্যুৎ॥
এখন
এখন নাকি সময় ভীষণ ভালো!
দারুণ লাগে নামলে রাতের কালো
পথের বাঁকে যেই না আসে কেউ
বুকের ভেতর নাচে খুশির ঢেউ
যা আছে সব দিলেই তবে মাফ
তা না হলে অস্ত্র খোলে খাপ
এখন ফ্রি ছিনতাইয়ের লাইসেন্স
শুনেই কারো ফেল করে তার সেন্স
আমরা যারা লোকাল জনগণ
“দিন বদলের” করুণ শিকার
হচ্ছি সারাক্ষণ।
ঝম্ ঝমা ঝম্ বৃষ্টি রে
ঝম্ ঝমা ঝম্ বৃষ্টি রে
এ কী অনাসৃষ্টি রে
যখন তখন ঝরতে থাকিস্
তোর কি নেই দৃষ্টি রে
কোনো খেয়াল নেই কি তোর
কখন বিকেল কখন ভোর
স্কুলে না যেতে পারি
খেলাও মানা,বন্ধ দোর
চঞ্চলা মন দেয় যে ছুট
হেথায় সেথায় কখন হুট
মেঘের আড়ে পাখির সাথে
লুকোচুরি গোল্লাছুট
বৃষ্টিরে তুই এবার থাম
কালকে না হয় আবার নাম॥
ধলার চলা
সেদিন পথে হাঁটতে গিয়ে ধলা
নিজের কানে নিজেই দিল মলা।
ইষ্টি-কুটুম বৃষ্টিতে কয় দিন
রাস্তাগুলো খুব লাগে অচিন।
থোকা থোকা পানির দেখা পায়
ময়লা-কাদা পাশ কাটিয়ে যায়।
একটু গেলেই খোড়াখুড়ির ধুম
নামল হঠাৎ বৃষ্টিরা ঝম্ ঝুম।
হেথায় খোঁজে হোথায় খোঁজে ঠাঁই
গুঁজবে মাথা ফুটপাথ তো নাই!
ময়লা-কাদা আর ড্রেনের পানি
যাচ্ছে নিয়ে ধলার দু’পা টানি।
ভাবছে ধলা খূব হয়েছে ভুল
ইচ্ছে জাগে ছিঁড়তে মাথার চুল।
ছাতা ছাড়া আর হবে না বের
ভুলের মাশুল শিক্ষা হলো ঢের।
পাশ দিয়ে যায় একটি লোকাল বাস
কাদা ছড়ায় ধলার গালে, ‘ঠাস্’।
তাই বলে কি
পা বাড়ালেই যাওয়া যায়
কোথাও যেতে বাধাও নাই
তাই বলে কি মন্দ পথে
মন কখনও যেতে চায়?
হাত বাড়ালেই পাওয়া যায়
যা খুশি তাই নেওয়া যায়
তাই বলে কি পরের জিনিস
না বলে মন নিতে চায়?
ইচ্ছে হলেই খাওয়া যায়
মণ্ডা-মিঠাই রসমালাই
তাই বলে কি বিষে চুমুক
এমনিতে কেউ দিতে চায়?
দেশের ভালো সবাই-ই চায়
দেশপ্রেমিকও হতেই চায়
তাই বলে কি চুক্তি করে
দেশকে বেচে দেয়া যায়?