মানবেন্দ্র সাহা
ছায়াহীন এক উজ্জ্বল মুক্তো
রোদউজ্জ্বল আকাশের নিচে দাঁড়িয়েও
অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে কেন?
সংকটটা কিসের—
মনের,
শরীরের,
নাকি টাকার?
এগুলো নিয়েই ভাবতে ভাবতে,
ঘুড়ির সুতোর সাথে গিট মেরে নিজেকেই উড়িয়ে দিলাম আকাশে।
কোথাও ঘুড়ির ছায়া পেলাম না কেন?
কড়া মায়ায় বাঁধা—
সুতোর সে বন্ধন ছিন্ন করে কোথায় সে ঘুড়ি?
অতলান্তে ডুব দিয়ে দেখি, ঝিনুকের গায়ে
শ্যাওলা জমেছে বেশ—পুরু শ্যাওলা!
পরিষ্কার করে দেখি,
একটি আধুনিক, চিরস্মার্ট শব্দ।
চোখের জলে একাগ্রচিত্তে ঝিনুকটা খুলে দেখি—
ছায়াহীন এক উজ্জ্বল মুক্তো!
তখনই চিৎকার করে বলে উঠি— বাবা!!
নেমন্তন্নই নামো নামো
শব্দ-তারুর বৈভব জড়ো হয় হিং-শীতল
হিমাঙ্কে,
গুটিকাট টিং-টং টুং-টাং।
সুর তার গিলে খায় বন্দিনী—
নন্দিনী ঝংকার ভুলে যায়, বিপাশা
পিপাসী যৌবন, ভঙ্গুর ভৈরব।
নয়নে নয়নে ছুঁয়ে যায় রোদ্দুর,
সারা দেহে রূপ তার নীল সমুদ্দুর!
পতনের শনি বাজে,
হা করে শিঙা;
এই বুঝি ফুঁ দিলেই কেঁপে ওঠে লঙ্কা!
ডঙ্কার শতদল, খিদে পেটে খুব তার,
একটিই বাগান নিমিষে সাবাড়।
লাল শনি ততক্ষণে আয়নায় বিদঘুটে—
ধূসর, ধূসর...
দারুচিনি
দারুচিনি চিবোতে চিবোতে ক্লান্ত হয়ে গেছো,
গোলমরিচে আর ভয় কিসের?
তাহলে এই লোকালয়ের নাম দিয়ে দাও—
দারুচিনি শহর।
গোল মরিচের বিধ্বংসী ঝাঁজে নেশাটা বেড়েছে খুব,
গোল আলুতেও কিছু ছিটিয়ে দাও এ দুই মসলার গুড়া।
লবঙ্গের প্রয়োজনটা তখন অনুভব করবে,
স্বাধীন শহরটাই লবণের অভাব হবে খুব!
এই স্বাদমিশালি রান্নার মাঝেই বেঁচে আছে সংসার;
আর সঙ সেজে অনুভব করছি এই দারুচিনি শহরে—
লবণের মতোই কিসের অভাব বেড়েছে ভীষণ?
সত্য, মানুষ নাকি বিশ্বাসের?
এই ত্রিভুজ প্রক্রিয়ার ভেতরে কিসের আলামত ঘনিয়ে আসে,
আর দারুচিনি শহরে কেন এত দীর্ঘশ্বাস?
নামতা কঠিন ব্লেড
এই নাও হাত, আরও দুটো দেবো;
বাতাবি লেবুর মতো টসটসে পাতলা সে রঙ।
ঘুঙুরে তার বেদম প্রহার,
নাও ভাসা সমুদ্র-ঢেউ!
অভিকর্ষের ভেদ জানতে সে উপুড় হয়ে পড়ে;
মাধ্যাকর্ষণের বেদুইন সাপ
গোগ্রাসে হা করে টেনে নেয় সমস্ত উজ্জ্বলতা।
তারপর টইটুম্বুর জল শুকিয়ে গেলে,
চিড় ধরা কলিজাটায় পিপাসা বাড়ে।