নিজস্ব প্রতিবেদক
মণিরামপুর, যশোর: ২৮০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় আনোয়ারা খাতুন নামে এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। একইসঙ্গে তাকে এক হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার যশোরের অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর দুই আসামি জিয়াউর রহমান ও মোস্তফা কামালকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
সাজাপ্রাপ্ত আনোয়ারা খাতুন মণিরামপুর উপজেলার চাকলা গ্রামের পালপাড়ার জিয়াউর রহমানের স্ত্রী। রায় ঘোষণার সময় আসামি আনোয়ারা খাতুন পলাতক ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে মণিরামপুর থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাকলা গ্রামের জিয়াউর রহমানের বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জিয়াউর ও তার সহযোগী মোস্তফা কামাল কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও পুলিশ জিয়াউরের স্ত্রী আনোয়ারা খাতুনকে আটক করে। পরবর্তীতে আনোয়ারা খাতুনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ঘরের ভেতর থাকা একটি প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর থেকে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ২৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ।
এই ঘটনায় মণিরামপুর থানার তৎকালীন এসআই তোবারেক আলী বাদী হয়ে আনোয়ারা খাতুনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মুন্সি আনিচুর রহমান আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে আনোয়ারা খাতুনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। তবে মামলার অন্য দুই আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না থাকায় তাদের বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য যে, সাজাপ্রাপ্ত আনোয়ারা খাতুন ইতিপূর্বে আদালত থেকে জামিন নিয়ে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন। আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।