নিজস্ব প্রতিবেদক
আটক ইব্রাহিম ছবি: ধ্রুব নিউজ
পরিবারের হাল ধরতে প্রতিবন্ধী শরীর নিয়েও জীবনযুদ্ধে নেমেছিলেন শামীম পারভেজ। আগে দুইবার ছিনতাইকারীদের হাত থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরলেও, তৃতীয়বার আর ফিরতে পারলেন না তিনি। ঝিকরগাছার আঙ্গারপাড়া মাঠের নির্জনতায় যখন তার নিথর দেহ পড়ে ছিল, তখন কেউ জানত না এই হত্যার পেছনে লুকিয়ে আছে এক চরম বিশ্বাসঘাতকতা। অবশেষে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই রহস্যের জট খুলেছে পুলিশ; জানা গেছে, সামান্য একটি অটোভ্যান আর ব্যাটারির লোভে শামীমকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়েছে তার নিজেরই 'বন্ধু'।
শনিবার যশোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে মূল ঘাতক ইব্রাহিম। ঘটনার রাতে শামীম তার অটোভ্যান নিয়ে ইব্রাহিমের দোকানে গেলে সেখানে তারা একসঙ্গে ইয়াবা সেবন করে। নেশা যখন তুঙ্গে, তখনই ইব্রাহিম ও তার কর্মচারী মামুন মিলে শামীমকে নিয়ে বের হয়। আঙ্গারপাড়া গ্রামের একটি নির্জন ক্ষেতের পাশে পৌঁছালে বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে শামীমের গলায় সাইকেলের ব্রেকের তার পেঁচিয়ে ধরে ইব্রাহিম। মুহূর্তেই শ্বাসরোধ হয়ে নিথর হয়ে পড়েন শামীম। সামান্য কয়েক হাজার টাকার অটোভ্যানটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তারা এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড ঘটায়।
ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেওয়ান মোহাম্মদ শাহজালাল আলমের নেতৃত্বে পুলিশ দ্রুত অভিযানে নেমে শ্রীরামপুর গ্রামের ইব্রাহিম এবং তার কর্মচারী মামুনকে আটক করে। পরে ইব্রাহিমের দেওয়া তথ্যমতে উদ্ধার করা হয় শামীমের সেই অটোভ্যান ও খুলে রাখা ব্যাটারিগুলো। একটি প্লাস্টিক ও লোহার তৈরি যন্ত্র যে মানুষের জীবনের চেয়ে দামি হতে পারে, খুনিরা তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
নিহত শামীম পারভেজ ছিলেন ঝিকরগাছা পৌরসভার কৃষ্ণনগর গ্রামের বাসিন্দা। জন্মগত প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও অন্যের দয়া না নিয়ে ভাড়ায় ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। এর আগে দুইবার ছিনতাইয়ের কবলে পড়েও প্রাণে বেঁচে ফেরায় হয়তো অটোভ্যানটির মায়াই তাকে বারবার পথে টেনে আনত। কিন্তু এবার আর বাড়ি ফেরা হলো না।