নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর: সদর উপজেলার রামনগর রেল ক্রসিং এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় এক নারীসহ তিনজনকে আটক করেছে কোতয়ালি থানা পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় পরিচালিত এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের নেপথ্যে ছিল পারিবারিক কলহ ও মাদকবিরোধী তথ্যের সংমিশ্রণ। আটকের সময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। আটককৃতরা হলেন— রামনগর রেল ক্রসিং এলাকার মৃত মহিউদ্দিনের ছেলে ওলিউল্লাহ (৪০), শহরের স্টেডিয়ামপাড়ার আলমগীর শেখ (৪৫) এবং তার স্ত্রী সোনিয়া (৩০)।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সোনিয়া রামনগর এলাকায় একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে আলমগীরের সাথে বসবাস করতেন। তবে আলমগীরের পরিবারে এটিই একমাত্র সংসার ছিল না; তার আরও দুইজন স্ত্রী রয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় আলমগীর তার স্ত্রী সোনিয়া ও বন্ধু ওলিউল্লাহকে নিয়ে ওই ঘরে অবস্থান করছিলেন। কোনোভাবে বিষয়টি জানতে পারেন আলমগীরের অন্য দুই স্ত্রী। তারা কৌশল অবলম্বন করে বাইরে থেকে ঘরের প্রধান দরজায় তালা লাগিয়ে দেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে কোতয়ালি থানার এসআই আল আমিন ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ দেখতে পায় ঘরটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। পরে তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলে তিনজনকে মাদক সেবনরত অবস্থায় হাতেনাতে আটক করা হয়।
আটকের পর তাদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে বিশেষায়িত ডোপ টেস্ট করানোর পর তিনজনের শরীরেই মাদকের উপস্থিতির অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়। এসআই আল আমিন জানান, বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকার কারণে তাদের পালিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। ডোপ টেস্টের রিপোর্ট তাদের অপরাধ নিশ্চিত করেছে।
কোতয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আমরা সত্যতা পেয়েছি। আটক সোনিয়াসহ অন্যদের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক কেনাবেচার নানা অভিযোগ রয়েছে। তারা কেবল সেবনকারী নাকি বড় কোনো মাদক চক্রের সাথে জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন।
তবে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সোনিয়া দাবি করেছেন, তিনি ও ওলিউল্লাহ যশোর-মণিরামপুর সড়কের কানাইতলায় 'তান তুর্কি' নামক একটি হোটেল পরিচালনা করেন। ওলিউল্লাহর জন্মদিন উপলক্ষে তারা ঘরোয়াভাবে কেক কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে ডোপ টেস্টের ফলাফল ও পুলিশের জব্দকৃত আলামত সোনিয়ার এই দাবিকে নাকচ করে দিচ্ছে। বর্তমানে আটকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এই ঘটনাটি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।