শাহরিয়ার রাগিব
ছবি: প্রতীকী
পোষা বিড়ালের আঁচড় খেয়ে যশোর সেনানিবাস এলাকা থেকে এক দম্পতি ছুটে এসেছিলেন যশোর সদর হাসপাতালে। উদ্দেশ্য ছিল দ্রুত জলাতঙ্কের টিকা নেওয়া। কিন্তু হাসপাতালে এসে তারা জানতে পারেন সরকারি টিকার সরবরাহ নেই। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর আরও তিনজন রোগী জড়ো হলে, সবাই মিলে বাইরের ফার্মেসি থেকে বেশি দামে টিকা কিনে আনেন। এরপর সেই টিকা নিয়ে তারা বাড়ি ফেরেন।
হাসপাতালের টিকাকেন্দ্রে প্রতিদিন এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে। কেউ কুকুরের কামড়, আবার কেউ শখের বিড়ালের আঁচড় খেয়ে ভিড় করছেন এখানে। রোগীদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি। ভালোবাসা থেকে এসব প্রাণীকে ঘরে ঠাঁই দিলেও, সামান্য অসাবধানতায় সেই প্রিয় প্রাণীই এখন বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
যশোর সদর হাসপাতালের টিকা ইনচার্জ নুরুল হক জানান, প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ জন রোগী এখানে আসেন। এর মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশই পোষা প্রাণীর মাধ্যমে আক্রান্ত। তিনি আরও জানান, উন্নত বিশ্বে এর আধুনিক চিকিৎসা থাকলেও তা অনেক ব্যয়বহুল। তাই বাংলাদেশে আপাতত ভ্যাকসিনের মাধ্যমেই এই রোগের ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জলাতঙ্কের একটি ভায়াল বা বোতল সাধারণত চারজন রোগীকে ভাগ করে দেওয়া হয়। কিন্তু সরকারি সাপ্লাই না থাকায় রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, চারজন রোগী একসাথে না হলে বা বাইরে থেকে চারজন মিলে এক বোতল টিকা কিনে না আনলে নার্সরা টিকা দিতে পারছেন না। ফলে কোনো রোগী একা হাসপাতালে আসলে তাকে অন্য রোগীদের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি ফার্মেসিতে এক ডোজ জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের দাম মানভেদে ৬০০ থেকে ৮৫০ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে। সংক্রমণের ধরন অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ কোর্সের জন্য একজন রোগীকে ৪ থেকে ৫টি ডোজ নিতে হয়, যার মোট খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা। তবে গভীর ক্ষত বা জটিল সংক্রমণের ক্ষেত্রে অতি প্রয়োজনীয় ‘ইমিউনোগ্লোবুলিন’ ইনজেকশনের দাম অনেক বেশি। বেসরকারিভাবে এটি সংগ্রহ করতে রোগীদের ওজন ও মানভেদে ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, কুকুর বা বিড়ালের কামড়ের পর সঠিক সময়ে টিকা না নিলে মৃত্যুর ঝুঁকি শতভাগ। তাই নিরুপায় হয়ে দরিদ্র রোগীরাও বাইরের ফার্মেসি থেকে চড়া দামে টিকা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।