শাহরিয়ার রাগীব
ছবি: প্রতীকী
ডিজিটাল অ্যানিমেশনের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সফটওয়্যারগুলোর মধ্যে একটি অ্যাডোবি অ্যানিমেট (যা আগে 'ফ্ল্যাশ' নামে পরিচিত ছিল)। নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে আজকের ইউটিউব কনটেন্ট পর্যন্ত, এই সফটওয়্যারটি ছিল টুডি (2D) অ্যানিমেটরদের প্রধান হাতিয়ার। তবে সম্প্রতি প্রযুক্তি বাজারে অ্যাডোবি তাদের এই আইকনিক সফটওয়্যারটির যাত্রা থামিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। অ্যাডোবি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা না করলেও, এর পেছনে কয়েকটি জোরালো কারণ রয়েছে।
অ্যাডোবি এখন তাদের সমস্ত শক্তি 'Adobe Firefly' এবং 'Adobe Express'-এ নিয়োগ করছে। তারা এমন টুল তৈরি করতে চায় যেখানে একজন সাধারণ মানুষ টেক্সট কমান্ড দিয়ে অ্যানিমেশন তৈরি করতে পারবে, যার ফলে অ্যানিমেটের মতো ম্যানুয়াল ফ্রেম-বাই-ফ্রেম সফটওয়্যারের গুরুত্ব কমছে। আবার আফটার ইফেক্টস-এর প্রসারের মাধ্যমে মোশন গ্রাফিক্স এবং অ্যানিমেশনের জন্য অ্যাডোবি বর্তমানে 'আফটার ইফেক্টস' (After Effects)-কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। অনেক জটিল টুডি কাজ এখন আফটার ইফেক্টসেই সহজতর হয়ে গেছে। মোবাইল গেমিং এবং আধুনিক ওয়েব এখন আর আগের মতো ভেক্টর ফ্ল্যাশ অ্যানিমেশনের ওপর নির্ভরশীল নয়। ইউনিটি (Unity) বা আনরিয়েল ইঞ্জিনের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো ইন্টারঅ্যাক্টিভ কনটেন্টের বাজার দখল করে নিয়েছে। যা অ্যানিমেশন ইন্ডাস্ট্রিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাবে।
বর্তমানের জনপ্রিয় অধিকাংশ টুডি কনটেন্ট এই সফটওয়্যারে তৈরি। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি অ্যানিমেশন ইনস্টিটিউটে হাতেখড়ি হয় এই সফটওয়্যার দিয়ে। হঠাৎ এটি বন্ধ হলে হাজার হাজার কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাদের কাজের ধারা পরিবর্তন করতে বাধ্য হবেন। এর অনুপস্থিতিতে পুরো সিলেবাস নতুন করে সাজাতে হবে। এমনকি অনেক টুডি মোবাইল গেমের ইউজার ইন্টারফেস (UI) এই সফটওয়্যারে তৈরি, যা এখন ঝুঁকির মুখে পড়বে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের কাছে এটি একটি বিবর্তনের অংশ। ফ্রেম-বাই-ফ্রেম ম্যানুয়াল অ্যানিমেশনের যুগ শেষ হয়ে এখন স্বয়ংক্রিয় এবং এআই-নির্ভর অ্যানিমেশনের যুগ শুরু হচ্ছে। অ্যাডোবি অ্যানিমেট হয়তো বিদায় নিচ্ছে, কিন্তু ডিজিটাল সৃজনশীলতার ইতিহাসে এটি একটি মাইলফলক হিসেবে থেকে যাবে।