Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

শতবর্ষে ‘শিখা’র আলো: যশোরে বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রযাত্রা নিয়ে সেমিনার

ধ্রুব রিপোর্ট | ধ্রুব রিপোর্ট |
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি,২০২৬, ০৩:০৯ পিএম
আপডেট : শনিবার, ২৪ জানুয়ারি,২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
শতবর্ষে ‘শিখা’র আলো: যশোরে বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রযাত্রা নিয়ে সেমিনার

ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া |

যশোর: বাঙালি মুসলমানের চিত্তবিকাশ, মুক্তবুদ্ধি চর্চা এবং সমাজকে আলোকিত করার এক অনন্য উৎস ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’। ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি ঢাকার কার্জন হলে যে কালজয়ী আন্দোলনের বীজ বপন করা হয়েছিল, আজ তার গৌরবের এক শতাব্দী পূর্ণ হলো। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে যশোরের অন্যতম জ্ঞানচর্চাকেন্দ্র ‘চিন্তাপ্রকাশ’ আয়োজন করে এক বিশেষ সেমিনার। ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ বিকেল চারটায় যশোর ইনস্টিটিউটের ৩য় তলায় ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ ও শতবর্ষ পরের ভাবনা’ শীর্ষক এই আয়োজনে সমবেত হয়েছিলেন একঝাঁক বুদ্ধিজীবী ও সংস্কৃতিকর্মী।

বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রগতির এক শতাব্দী ও ‘শিখা’র দর্শন

এদেশের জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রগতির ইতিহাস মূলত এ অঞ্চলের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মানসিক বিকাশের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিশ শতকের গোড়ার দিকে যখন বাঙালি সমাজ স্থবিরতা আর কুসংস্কারে আচ্ছন্ন ছিল, তখন আবুল হুসেন, কাজী মোতাহার হোসেন এবং কাজী আবদুল ওদুদদের মতো ক্ষণজন্মা মনীষীরা উপলব্ধি করেছিলেন— চিন্তার মুক্তি ছাড়া জাতীয় মুক্তি অসম্ভব। সেই মহান ব্রত নিয়েই ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’। তাদের বার্ষিক মুখপত্র ‘শিখা’র স্লোগান ছিল— “জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।” শতবর্ষ পেরিয়ে আজও সেই আন্দোলনের চেতনা ও ‘শিখা’র আলো কতটা প্রাসঙ্গিক, তাই ছিল সেমিনারের মূল উপজীব্য।

অনুষ্ঠান ও মূল প্রসঙ্গের ব্যবচ্ছেদ

যশোর ইনস্টিটিউটের ৩য় তলায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে বিশেষ আকর্ষণ ছিল মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন। সেমিনারের মূল বক্তা এবং প্রবন্ধকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট গবেষক, প্রাবন্ধিক ও চিত্রকর মফিজুর রহমান রুন্‌নু ।  তিনি ‘ মুসলিম সাহিত্য সমাজ ও শতবর্ষ পরের ভাবনা’ শীর্ষক তার প্রবন্ধে অত্যন্ত সাবলীলভাবে তুলে ধরেন কীভাবে একদল তরুণ শত বছর আগে সমাজকে পাল্টে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং বর্তমানের পরিবর্তিত বিশ্ব-প্রেক্ষাপটেও কেন সেই ‘বুদ্ধির মুক্তি’র দর্শন আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রযাত্রার জন্য অপরিহার্য।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করছেন গবেষক, প্রাবন্ধিক ও চিত্রকর মফিজুর রহমান রুন্‌নু

সেমিনারে প্রধান অতিথির আসন অলঙ্কৃত করেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক, কবি ও বাংলাদেশ রেলওয়ের সাবেক মহাপরিচালক মোহাম্মদ শামছুজ্জামান। তিনি তার বক্তব্যে আলোকপাত করেন সমাজের গভীর স্তরে প্রগতিশীল চিন্তার প্রসারের ওপর। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বরেণ্য ব্যক্তিত্ব অ্যাডভোকেট আজিজুল ইসলাম। সমগ্র অনুষ্ঠানটি দক্ষতার সাথে সঞ্চালনা করেন প্রভাস আকাশ মল্লিক ও রাবেয়া খানম।

বিদগ্ধজনদের ভাবনা ও সময়ের দাবি

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আলোচনার বৈচিত্র্য বাড়িয়েছেন একঝাঁক মননশীল মানুষ। সংক্ষেপে তাদের ভাবনাগুলো ছিল সমকালীন সংকটের বিপরীতে এক শক্ত অবস্থান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক পাভেল চৌধুরী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সুরধুনী সংগীত নিকেতনের সভাপতি হারুন অর রশীদ এবং লেখক ও সাংবাদিক সাজেদ রহমান। সভাপতিত্ব করেন চিন্তা প্রকাশের সহ-সভাপতি অ্যাড. আজিজুল ইসলাম।

বক্তারা সমস্বরে উল্লেখ করেন যে, মুসলিম সাহিত্য সমাজ বাঙালি মুসলমানকে প্রথম শিখিয়েছিল কীভাবে প্রশ্ন করতে হয় এবং কীভাবে যুক্তির আলোকে জীবনকে বিচার করতে হয়। আজকের ডিজিটাল যুগে যখন নতুন নতুন মোড়কে অসহিষ্ণুতা দেখা দিচ্ছে, তখন ১৯২৬ সালের সেই আন্দোলনের চেতনা আমাদের জন্য ধ্রুবতারার মতো কাজ করবে।

‘চিন্তাপ্রকাশ’ ও আগামীর প্রতিশ্রুতি

যশোরের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিমণ্ডলে ‘চিন্তাপ্রকাশ’ দীর্ঘদিন ধরে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করছে। সংগঠনের সভাপতি— কবি, গবেষক ও চিত্রশিল্পী মফিজুর রহমান রুন্নুর সুযোগ্য নেতৃত্বে এই সেমিনারটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। যশোর ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনটিতে স্থানীয় লেখক, সাংবাদিক, ছাত্র এবং সুধী সমাজ একমত পোষণ করেন যে, নতুন প্রজন্মের কাছে এই মনীষীদের ইতিহাস ও আদর্শ পৌঁছে দেওয়া এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

সংখ্যার চেয়ে গুরুত্ব বড়

মুসলিম সাহিত্য সমাজের শতবর্ষ পূর্তি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি ছিল আত্মোপলব্ধির একটি মাহেন্দ্রক্ষণ। সেমিনারে উপস্থিতির সংখ্যা হয়তো বিশাল জনসমুদ্রের মতো ছিল না, কিন্তু এই আয়োজনের বুদ্ধিবৃত্তিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য ছিল অপরিসীম। মুষ্টিমেয় মানুষের হাতেই যেমন শত বছর আগে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তেমনি আজকের এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রয়াসটিও আগামীর এক বিশাল পরিবর্তনের বীজ বহন করছে। ‘চিন্তাপ্রকাশ’ আয়োজিত এই সেমিনার আবারও প্রমাণ করেছে যে, সত্য ও সুন্দরের পথে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের আবেদন এবং ‘শিখা’র সেই অনির্বাণ আলো চিরকাল অম্লান থাকবে।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)