নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: সংগৃহীত
স্ত্রী, শ্যালক, শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে ভ্রূণ হত্যা, হত্যা চেষ্টা এবং চুরির অভিযোগে যশোর আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার যশোর সদরের নলডাঙ্গা গ্রামের নাজমুল হাসান বাদী হয়ে এই মামলা করেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য কোতোয়ালি থানার ওসিকে আদেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলো—নলডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা বাবু, তার পিতা মুনতাজ, মা রেহেনা বেগম এবং তার বোন ও বাদীর স্ত্রী রিজিয়া বেগম।
মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, গত ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট পারিবারিকভাবে রিজিয়া বেগমের সঙ্গে নাজমুল হাসানের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক কলহের জেরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ক্ষতি করার ষড়যন্ত্র শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ মে আসামিরা নাজমুল হাসানের বাড়িতে এসে তাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে হত্যার চেষ্টা চালায়। এ সময় তাকে রক্ষা করতে গেলে তার বাবা-মাকেও মারপিট করে আসামিরা। পরে আহত অবস্থায় নাজমুল হাসানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে বিরোধ মীমাংসার কথা বলে গত ২৯ মে আসামিরা আবারও তার বাড়িতে এসে নগদ ৫০ হাজার টাকা, এক জোড়া স্বর্ণের বালা ও একটি স্বর্ণের আংটি লুট করে নিয়ে যায়।
এরপর গত ১৭ জুন স্ত্রী রিজিয়া বেগম ফোন করে বাদীকে জানান, টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তিনি আর সংসার করবেন না এবং নিজের গর্ভের সন্তান নষ্ট করে ফেলেছেন। পরে খোঁজখবর নিয়ে নাজমুল হাসান জানতে পারেন, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে তার স্ত্রীর ১৪ সপ্তাহের গর্ভের সন্তান নষ্ট করে ফেলেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় থানা কর্তৃপক্ষ মামলা গ্রহণ না করায় তিনি প্রতিকার চেয়ে আজ আদালতে এই মামলা দায়ের করেন।