নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ ঘণ্টা হাজত বাস করা রাজু ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোর আদালত চত্বরে এক প্রবাসীর সাবেক স্ত্রী ও তার জামাতার ব্যাগ এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় এক যুবককে ৫ ঘণ্টা হাজত খাটতে হয়েছে। সোমবার দুপুরে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান-এর আদালতের সামনে এই হট্টগোলের ঘটনা ঘটে।
পরে বিকেলে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল আটক যুবককে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন। মুক্তি পাওয়া যুবকের নাম মো. রাজু, তিনি যশোর শহরের আশ্রম রোড এলাকার বাসিন্দা ইমান আলী-র ছেলে।
বেনাপোল পোর্ট থানার গয়ড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত সবুর আলী-র মেয়ে শরিফা বেগম-এর সাথে ২০২২ সালে বিয়ে হয় নারায়ণগঞ্জ সদরের তৈলঘিরা এলাকার বাসিন্দা ও সিঙ্গাপুর প্রবাসী নাসির-এর। সাম্প্রতিক পারিবারিক কলহের জেরে গত ৯ জুন স্বামী নাসিরের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করেন শরিফা। পরে দেনমোহরের টাকা পরিশোধের শর্তে তাদের মধ্যে আপস-মীমাংসা হয়।
পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার শরিফা বেগম তার প্রথম পক্ষের জামাতা আরিফুল ইসলাম-কে সাথে নিয়ে আদালতে আসেন। সেখানে স্বামী নাসির তাকে নগদ ২ লাখ টাকা ও ৩ লাখ টাকার একটি চেক বুঝিয়ে দিয়ে তালাক ও মামলা প্রত্যাহারের আইনি প্রক্রিয়া শেষ করেন।
টাকা ও চেক নিয়ে শরিফা এবং তার জামাতা আদালত ভবন থেকে নিচে নামার সময় ওত পেতে থাকা দূরসম্পর্কের আত্মীয় রাজু ও তার দুই সহযোগী তাদের গতি রোধ করে। তারা টাকার ব্যাগ ও মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে জামাতা আরিফুল ইসলাম কৌশলে দৌড়ে গিয়ে এজলাসে বিচারককে বিষয়টি জানান। বিচারকের তাৎক্ষণিক নির্দেশে পুলিশ রাজুকে হাতেনাতে আটক করতে পারলেও তার দুই সহযোগী পালিয়ে যায়।
আদালত অবমাননা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে রাজুকে দুপুরের পর হাজতে রাখা হয়। বিকেলে কোর্ট পরিদর্শক ভুক্তভোগী শরিফা বেগম, জামাতা আরিফুল এবং আটক রাজুকে বিচারকের মুখোমুখি করেন। সেখানে রাজু নিজের ভুল স্বীকার করায় এবং বিষয়টি পারিবারিক ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে প্রমাণিত হওয়ায় ৫ ঘণ্টা পর বিচারক তাকে মুক্তির আদেশ দেন।