Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

মণিরাপুরে রাস্তার সলিংয়ে নিম্নমানের ইট, পরিদর্শনে ক্ষুব্ধ পিআইও

মণিরাপুর (যশোর) প্রতিনিধি | মণিরাপুর (যশোর) প্রতিনিধি |
প্রকাশ : সোমবার, ১৯ জানুয়ারি,২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম
আপডেট : সোমবার, ১৯ জানুয়ারি,২০২৬, ১০:০০ পিএম
মণিরাপুরে রাস্তার সলিংয়ে নিম্নমানের ইট, পরিদর্শনে ক্ষুব্ধ পিআইও

যশোর: মণিরাপুর উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে একটি মাটির রাস্তা সলিংয়ের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে নিম্নমানের ইট ও প্রয়োজনের তুলনায় কম বালি ব্যবহারের সত্যতা পেয়েছেন খোদ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করার পাশাপাশি নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে না নিলে বিল আটকে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) প্রকল্পের আওতায় রঘুনাথপুর দেবির বাড়ির মোড় থেকে মোন্তাজ উদ্দিনের বাড়ির অভিমুখী রাস্তাটির সলিং কাজের জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি মুনসুর আলীর তত্ত্বাবধানে এই সংস্কার কাজ চলছে। গত সপ্তাহে প্রকল্পের অর্ধেক টাকা উত্তোলন করে ইট ও বালি ফেলার কাজ শুরু হয়। কাজ শুরু হতেই ইটের মান নিয়ে আপত্তি তোলেন স্থানীয়রা।

সোমবার দুপুরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সেলিম খান নিজে ওই রাস্তা পরিদর্শনে এসে কাজের মান দেখে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানান। পরিদর্শনে তিনি দেখেন, প্রায় ৫০-৬০ ফুট এলাকায় অত্যন্ত নিম্নমানের (দুই নম্বর) ইট দিয়ে সলিং করা হয়েছে। পাশাপাশি রাস্তার দু’পাশে প্রচুর পরিমাণে ভাঙা ও খারাপ ইট স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এছাড়া সিডিউল অনুযায়ী রাস্তার নিচে ৪ ইঞ্চি বালুর স্তর থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তার চেয়ে অনেক কম বালু ব্যবহার করা হয়েছে। এর আগে শনিবার দপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী গোলাম সরোয়ার পরিদর্শন করে একই অনিয়ম পেয়েছিলেন এবং ইট সরানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করেই নিম্নমানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

স্থানীয় বাসিন্দারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অন্যান্য ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলেও খেদাপাড়ায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আড়ালে পুরোনো অনিয়মই বহাল রয়েছে। তাদের ভাষ্য, কাজের নামে সরকারি টাকা অপচয় করা হচ্ছে, অথচ দেখার কেউ নেই। এলাকাবাসী বর্তমান কাজের মানের ওপর পূর্ণ অনাস্থা জ্ঞাপন করেছেন।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুনসুর আলী দাবি করেন, তিনি সর্বোচ্চ দাম দিয়ে ভালো ইট কিনেছেন। অন্য প্রকল্পের চেয়ে দুই হাজার টাকা বেশি দিয়ে প্রতি ট্রাক ইট কেনা হয়েছে। তার দাবি, ভাটা থেকে ভুল করে কিছু দুই নম্বর ইট চলে এসেছিল, সেগুলো ফেরত পাঠিয়ে ভালো ইট আনা হয়েছে। তবে সরেজমিনে পিআইও-র উপস্থিতিতে নিম্নমানের ইট দিয়ে সলিংয়ের কাজ চলতে দেখার বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেলিম খান গণমাধ্যমকে জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে এক নম্বর ইট এবং ন্যূনতম চার ইঞ্চি বালি ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। রঘুনাথপুরের রাস্তায় সেই নির্দেশনা মানা হয়নি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নিম্নমানের ইট অপসারন করে এবং সঠিক পরিমাণ বালু দিয়ে কাজ শেষ না করলে দ্বিতীয় কিস্তির বিল আটকে দেওয়া হবে।

একই দিনে খেদাপাড়া ইউনিয়নের মামুদকাটি গ্রামে দুই ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম ও লিটন হোসেনের তত্ত্বাবধানে চলা চারটি রাস্তার সলিংয়ের কাজ পরিদর্শন করে ইটের মান ভালো পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন পিআইও। তবে রঘুনাথপুরের এই অনিয়ম নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)