কবিতা
ফলস পেইন
অথচ রাত কাটে, কাটে দিন,অনন্তকাল সেও কেটে যাচ্ছে-
ভূমি তৈরি, বীজ ও সার সব ঠিক আছে
অথচ ফসল ফলে না,
ললাটে ভাজ পড়ে, দিশাহীন কৃষক,
বৈরি সময় কৃষক ধরতে পারে না ।
মাঠে দীর্ঘ লাইন, শোর একই , বুথে উন্মাদনা
ব্যালট গোনা শেষ , প্রার্থী পাশ করেনা,
বেকুব ভোটার পালের বাতাস বোঝেনা।
নয় মাস হলেই পেইন ওঠে আবার পেইন লুপ্ত হয়
অতঃপর নয় মাস নয় বছরে গড়ায়
কতবার পেইন উঠল কতবার তা মিথ্যে হলো!
অবলা জানেনা সঙ্গম জ্ঞান না থাকলে
সব পেইন ই ফলস পেইন ।
বসন্ত
কোকিল তোমাকে ডাকতেই হবে
যেহেতু আজ বসন্ত
শিল্পী তোমাকে আঁকতেই হবে
যেহেতু আজ বসন্ত
কবি তোমাকে লিখতেই হবে
যেহেতু আজ বসন্ত
অবুঝ তোমাকে শিখতেই হবে
যেহেতু আজ বসন্ত
জনতা তোমাকে জাগতেই হবে
যেহেতু আজ বসন্ত
ঘাতক তোমাকে ভাগতেই হবে
যেহেতু আজ বসন্ত
সূর্য নতুন উঠতেই হবে
যেহেতু আজ বসন্ত
ফুল তোমাকে ফুটতেই হবে
যেহেতু আজ বসন্ত।।
হৃদয়টা রাখতে চাই
নির্ঘুম রাতে পায়ার গ্লাসে নিজেকে দাঁড় করায়
লালচোখ গভীর ভাবনার সাক্ষ্য ঘোষণা করে
টাউন হল মাঠ তোলপাড় করে তোমার হেঁটে আসা আমি দেখি,
দেখি তোমার দুচোখ ঘিরে কালসিটে দাগ একই ঘোষণা দিচ্ছে।
কী এতো ভাবনা? নাকি দুর্ভাবনা?
বাংলাদেশের একত্রিশটি সীমান্তে আমি পা রেখেছি
রেখেছি পা সাগরকন্যা ও জিঞ্জিরার বালিবেলাতেও
অথচ হৃদয় রাখার জায়গা মেলেনি,
টেবিলে সাজানো রোস্ট বা কালাভুনা লোভাতুর করার জন্য যথেষ্ট
কিন্তু আমার খেতে ইচ্ছে করেনা,
খাওয়া কী খুব জরুরী?
আমরা পরস্পরের দিকে পিঠ রেখে হেঁটে চলেছি
আমরা কী প্রেমের চূড়ান্ত সাফল্যের দিকে চলছি?
আমি জানি দূরত্ব সাফল্যের সাক্ষ্য দেয়,
জন্মভিটে থেকে যত দূরত্বে মানুষ যায় সে ততটাই সফল
প্রিয়তমা, আমরা কী প্রেমের চূড়ান্ত সফলতার দিকে হাঁটছি?
হৃদয় রাখার জায়গা যদি স্থির হয় তবে হাঁটাই ভালো।।