কবিতা
স্বাধীনতা ও আমাদের স্বপ্নহীনতা
মুক্তি ও মানবতা কাঁদে -কাঁদে স্বপ্নের রাত
আমার আঙ্গিনা আজ বিষাক্ত –ক্লেদাক্ত শুধু
শিশুর শরীরে যাতনার নীল ছোবল, ক্ষত-বিক্ষত
শোষকের হাতে ছোটে বারুদ-আগুন, গোপন নির্দেষ।
হে স্বদেশ! আমার রক্তে নাচে দ্রোহের মাতম
তবুতো থামে কথা- থেমে যায় প্রাণ, নিস্তেজ স্পন্দন।
এখন দুঃসময়, এখন শকুনের উল্লাস-
এখন শোষকের হাতে গোপন অস্ত্রের খেলা
বলি দান...
এক অসম্ভবের মোহে জাগা রাতের শেয়াল
খেলা করে অনায়াসে শতাব্দির রেখা ধরে
ভীষণ উৎসবে মাতে মৃতাত্মাভোজন শেষে।
প্রয়োজনহীনতার দোহাই দিয়ে ঘুমিয়েছে যারা
জাগাবার নেই প্রয়োজন, জীবন্ত লাশের সাথে
তাদের সখ্যতা, আহ অত্যাচারি রাজা! দেখে না
ইতিহাসে রক্তের প্রতিদান-দেখেনা বিজয়।
পতনের সূত্র
এ যেন রবোটিক ক্রাই তুমি যেমন কেঁদেছিলে ভরা মাঠের জনসভায়
রাত্রির জলসায় যখন মৃত্যুর উৎসবে রোশনাই বাড়াচ্ছিলে সদলবলে,
এভাবে যান্ত্রিক হয়ে যাওয়া তোমার পাশবালিশেরাও গবেষণা করে পতনের সূত্র
পরিবর্তনের উড়ো চিঠি হাতে নিয়ে বেশতো করেছো জড়োয়া সঙসার তাই
দাম্ভিক জঙ্গলে ছলে ও কলে পানে দিয়ে নুন মারছো গুলি দুপুরকে করে রাত।
দুঃসময়
ছুঁই ছুঁই বাতাস আক্রান্ত তবু দীর্ঘ অপরাধ বোধে
মনের পললে সাথীহীন দিন, জন্মে না নতুন চারা।
কিংবদন্তীর কথার নামে ছেঁড়াপাতার কান্না শোনা
তৃণ লতায় প্রাণ খেলা করে শুধু মৃত্যু অহংকারে।
অবোধ জমিন চেয়ে দেখে ঠিক পরাজিত সম্ভ্রম
ক্লান্ত ভেলায় ভাসছে যদিও লক্ষীন্দারের লাশ
গুমোট-বধির বেহুলা খোঁজে রক্ত নদীর কূল
ছোবলে ছোবলে মথিত সময়, বিস্তীর্ণ চরাচর।