ছবি: ধ্রুব নিউজ
একটিমাত্র গাছ, অথচ তার মাথা ২২টি! দূর থেকে দেখলে মনে হবে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে অনেকগুলো খেজুরগাছ। কিন্তু কাছে এলেই ভুল ভাঙে এবং থমকে যেতে হয়—সবকটি ভিন্ন ভিন্ন মাথা আসলে একই গাছের মূল কাণ্ড থেকে চারাগাছের মতো আকাশের দিকে উঠে গেছে। প্রকৃতির এমন এক বিরল ও বিস্ময়কর কারুকাজের দেখা মিলছে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার কুশনা সড়কে।
স্থানীয়দের কাছে ব্যতিক্রমী এই গাছটি এখন পরিচিতি পেয়েছে ‘২২ মাথার খেজুরগাছ’ হিসেবে। সড়কের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা গাছটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন পথচারী ও উৎসুক মানুষ। কেউ থমকে দাঁড়িয়ে বিস্ময় চোখে দেখছেন, কেউ মোবাইল ফোনে ছবি তুলছেন, আবার কেউ কেউ ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। মুহূর্তেই গাছটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কৌতূহল তুঙ্গে উঠেছে।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বহু বছর ধরে কুশনা সড়কের পাশে অবহেলায় দাঁড়িয়ে রয়েছে এই খেজুরগাছটি। সময়ের আবর্তে ধীরে ধীরে গাছটির মূল গোড়া ও ঊর্ধ্বাংশ থেকে একের পর এক শাখা বা নতুন মাথা গজাতে শুরু করে। বর্তমানে হিসেব করে গাছটিতে ২২টি পৃথক শাখা বা দৃশ্যমান মাথা গণনা করা যাচ্ছে।
একটি স্বাভাবিক খেজুরগাছে সাধারণত কোনো ডালপালা বা অতিরিক্ত মাথা থাকে না। তবে এই গাছে কীভাবে এতগুলো মাথা গজালো—তা নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে নানামুখী প্রশ্ন ও রহস্য। এটি কি উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধির বিরল কোনো জিনগত রূপান্তর (Mutation), নাকি এর পেছনে রয়েছে বিশেষ কোনো জৈবিক কিংবা পরিবেশগত কারণ?
গাছটির সঠিক বয়স কত, ঠিক কোন সময় থেকে এতে একাধিক মাথা গজানো শুরু হয়েছিল এবং এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধির বৈজ্ঞানিক কারণ কী—এসবের স্পষ্ট বা নির্ভরযোগ্য কোনো ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে বিস্ময়ের পাশাপাশি উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের দিয়ে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানের তাগিদ তৈরি হয়েছে।
কোটচাঁদপুরের কুশনা সড়কের এই অদ্ভুত খেজুরগাছটি এখন কেবল স্থানীয়দের কৌতূহলের বস্তুই নয়, বরং হয়ে উঠতে পারে প্রকৃতির এক অনন্য ও বিরল জীবন্ত নিদর্শন। বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও প্রয়োজনীয় সরকারি সংরক্ষণের সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে এটি কোটচাঁদপুর উপজেলার অন্যতম প্রধান একটি দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন পরিবেশবাদীরা।