ধ্রুব ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকৌশলে (ইঞ্জিনিয়ারিং) স্নাতক কলকাতার শঙ্খ মিত্র। ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী শীর্ষ বেতনভোগী সিইওদের যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েরই এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী বিশ্বব্যাপী শীর্ষ বেতনভোগী সিইওদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে নিজের নাম লিখিয়েছেন।
কলকাতার শঙ্খ মিত্র এখন টেসলার প্রধান ইলন মাস্কের ঠিক পরেই স্থান করে নিয়েছেন। ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী সর্বোচ্চ বেতনভোগী সিইওদের যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে দ্বিতীয় স্থানে জায়গা পেয়েছেন তিনি।
আমেরিকার রিয়্যাল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট ‘ওয়েলটাওয়ার’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শঙ্খের ২০২৫ সালে মোট প্রাপ্ত অর্থ ও বার্ষিক ক্ষতিপূরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮২ কোটি ১১ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা / ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭৭৬০ কোটি টাকা)। তবে ‘ওয়েলটাওয়ার’-এর ২০২৬ সালের প্রক্সি ফাইলিং অনুযায়ী, এই ৮২ কোটি ১১ লাখ ডলারের পুরোটাই তাঁর ব্যাংকে জমা হওয়া বার্ষিক বেতন নয়। ২০২৫ সালে তাঁর মূল বেতন ছিল ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার। মোট প্রাপ্ত অর্থের বাকি অংশ, অর্থাৎ সিংহভাগই এসেছে শেয়ার-পুরস্কার (স্টক অ্যাওয়ার্ড) এবং দীর্ঘমেয়াদি পারফরম্যান্স-ভিত্তিক ইনসেনটিভের মাধ্যমে। এই শেয়ার ও ইনসেনটিভ পাওয়ার বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য এবং নির্দিষ্ট কিছু শর্তপূরণের ওপর নির্ভরশীল। তাই এগুলোকে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় তাঁর যোগ্য নেতৃত্ব ও সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ধরা হয়।
শঙ্খের এই সাফল্যের গল্প ভারতের প্রথাগত উচ্চশিক্ষার প্রচলিত ধারণাকে বদলে দিয়েছে। তিনি কোনো আইআইটি বা এনআইটির শিক্ষার্থী ছিলেন না। কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকৌশলে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি যুক্ত হন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অঙ্গনে। পরবর্তী সময়ে কলম্বিয়া বিজনেস স্কুল থেকে ‘অ্যাপ্লায়েড ভ্যালু ইনভেস্টিং’-এ এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। সেখানে মেধা তালিকায় শীর্ষে থাকা শিক্ষার্থীদের তৈরি ‘ডিনস লিস্ট’-এ জায়গা করে নেন তিনি।
তার পেশাগত জীবন শুরু হয়েছিল একটি অ্যাকাউন্টিং ফার্ম থেকে। পরবর্তী সময়ে তিনি ‘ফাইডেলিটি ইনভেস্টমেন্টস’ এবং ‘সিটাডেল ইনভেস্টমেন্ট’ গ্রুপে অ্যানালিস্ট হিসেবে কাজ করেন। এরপর শঙ্খ ‘রিয়েল এস্টেট সিকিউরিটিজ’ বিশেষজ্ঞ হিসেবে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে পোর্টফোলিও ম্যানেজারের দায়িত্ব সামলান।
২০১৬ সালে তিনি ‘সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট’ (ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস) হিসেবে ‘ওয়েলটাওয়ার’ প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন। নিজের দূরদর্শিতা ও আর্থিক কৌশলের বলে মাত্র চার বছরের মাথায়—অর্থাৎ ২০২০ সালের অক্টোবরেই প্রতিষ্ঠানটির সিইও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার এই প্রতিষ্ঠান মূলত প্রবীণ নাগরিকদের আবাসন, পোস্ট-অ্যাকিউট কেয়ার এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত অবকাঠামো ও সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করে থাকে। আবাসন, আর্থিক সুবিধা ও স্বাস্থ্যসেবার এই বিশেষ সমন্বয়ে শঙ্খের কৌশলগত নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠানটিকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
প্রতিনিয়তই যাদবপুরের বহু প্রাক্তন শিক্ষার্থী ভারতের ভেতরে ও বাইরে নিজেদের যোগ্যতায় বিশেষ অবস্থান তৈরি করে নিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক নানা বিতর্ক ও রাজনৈতিক আলোচনার বাইরেও এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সামনে বৈশ্বিক মঞ্চে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার বিশাল সুযোগ রয়েছে—শঙ্খ মিত্রের সাফল্য আবারও সে কথাই স্মরণ করিয়ে দিল।