ধ্রুব নিউজ ডেস্ক
প্রতীকী ছবি ছবি: সংগৃহীত
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ঘোষিত ফল পুনর্নিরীক্ষণ এবং পুনর্মূল্যায়নের জন্য রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। গত ৩১ অক্টোবর ফল প্রকাশের পরদিন অর্থাৎ ১ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া ৭ দিনের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ১০ লাখ ৩৭ হাজার ৭১৭টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ফল পুনর্মূল্যায়নে আবেদনের ক্ষেত্রে এটিই এযাবৎকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে তথ্যটি নিশ্চিত করে জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মোট ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ জন শিক্ষার্থী আবেদন ফরম জমা দিয়েছেন। এদের মধ্যে একজন শিক্ষার্থী একাধিক বিষয় কিংবা পত্রের খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করার কারণে মোট আবেদনের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।
শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন বেড়েছে কয়েক গুণ। ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ২ লাখ ২৬ হাজার ৫৬১ জন পরীক্ষার্থী ৪ লাখ ২৮ হাজার ৪৫৮টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছিলেন। আর তার আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে মোট আবেদনের সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৮ হাজার ১১৬টি।
প্রসঙ্গত, গত ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২.১২ শতাংশ এবং সারাদেশে জিপিএ-৫ লাভ করেছে ৪০ হাজার ৮৪ জন পরীক্ষার্থী, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ফলাফল। জিপিএ ও পাসের হার হঠাৎ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়াকে এই বিপুল পরিমাণ আবেদন জমা পড়ার মূল কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে ফল পুনর্নিরীক্ষণের নির্ধারিত সময়সীমা শনিবার (৭ নভেম্বর) রাত ৮টায় শেষ হয়েছে। তবে শেষ দিকে প্রযুক্তিগত কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান জানান, আবেদনের শেষ দিনে সিস্টেমের অনলাইন ত্রুটির কারণে শেষ ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে গিয়ে কিছুটা জটিলতার মুখে পড়েছিলেন। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে আবেদনের সময়সীমা কিছুটা বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আবেদনের সময় ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। পুনর্নিরীক্ষণের সময় বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দ্রুত জানিয়ে দেওয়া হবে।