কোটচাঁদপুর প্রতিনিধি
ছবি: ধ্রুব নিউজ
বইয়ের পাতায় জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার প্রত্যয়ে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে পাঠাগারের জন্য বই প্রদান ও হস্তান্তর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিদ্যালয়ের কোহিনুর অডিটোরিয়ামে মাওলানা শামসুল হক ফাউন্ডেশন, ঢাকার সৌজন্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোটচাঁদপুর পৌর বিএনপির সভাপতি এস কে এম সালাহ উদ্দিন বুলবুল সিডল। প্রধান আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামী স্কলার ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সাবেক পরিচালক এ কে এম জিয়াউল হক শামীম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা শামসুল হক ফাউন্ডেশন, ঢাকার চেয়ারম্যান মাওলানা মো. মিজানুর রহমান, সাবেক কাউন্সিলর ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য মো. খাইরুল ইসলাম এবং শিক্ষক প্রতিনিধি মো. রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইসহাক আলী।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। কোরআন তেলাওয়াত করেন বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসনুভা ইসলাম সারা। গীতা পাঠ করেন একই শ্রেণির শিক্ষার্থী তিনসা সরকার। এ সময় বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী নিশাত সারিকা বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস কে এম সালাহ উদ্দিন বুলবুল সিডল বলেন, শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি জ্ঞানমূলক বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার শিক্ষার্থীদের চিন্তা-চেতনা, মননশীলতা ও সৃজনশীলতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষার প্রসার এবং নতুন প্রজন্মের সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে মাওলানা শামসুল হক ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এ ধরনের মহৎ কাজে সমাজের বিত্তবান ও সচেতন ব্যক্তিদেরও এগিয়ে আসা উচিত।
প্রধান আলোচক এ কে এম জিয়াউল হক শামীম বলেন, বই মানুষের প্রকৃত বন্ধু। বই মানুষের জ্ঞানের পরিধি বাড়ায়, চিন্তার জগৎকে সমৃদ্ধ করে এবং মানুষকে আলোকিত হতে শেখায়। শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান ও মননশীলতামূলক বই পড়তে হবে। নিয়মিত বই পড়ার মাধ্যমে নৈতিকতা, মানবিকতা ও ইতিবাচক জীবনবোধ গড়ে ওঠে। তাই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জীবনে বই পড়াকে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।
অনুষ্ঠানের মূল পর্বে মাওলানা শামসুল হক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়ের পাঠাগারের জন্য বই প্রদান ও আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় অতিথিরা বলেন, শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চার সুযোগ বাড়াতে পাঠাগারকে আরও সমৃদ্ধ করা প্রয়োজন। শুধু বই সংগ্রহ করলেই হবে না, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠাগারমুখী করাও জরুরি।
সভাপতির বক্তব্যে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইসহাক আলী মাওলানা শামসুল হক ফাউন্ডেশন, ঢাকার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পাঠাগারের জন্য পাওয়া বইগুলো শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জন, সৃজনশীল চিন্তা ও পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম ও সুবাস কুমার রায়।
বই হস্তান্তরের এ উদ্যোগকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে জ্ঞানমনস্ক, মননশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার একটি ইতিবাচক প্রয়াস হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।