কোটচাঁদপুর প্রতিনিধি
কোটচাঁদপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন ছবি: ধ্রুব নিউজ
ইস্মরণ, রাজপথে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা আর জাতীয় ঐক্যের প্রত্যয়ে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে পালিত হয়েছে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। দিবসটি ঘিরে উপজেলা শহরজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা, জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং দেশাত্মবোধক সংগীতের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) কোটচাঁদপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর-মহেশপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. মতিয়ার রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম হুসাইন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মতিয়ার রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও পথনির্ধারণী দিন। সেদিন সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর মতে, ৭ নভেম্বর ছিল দেশের শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার একটি ঐতিহাসিক দিন।
তিনি বলেন, অতীতের ইতিহাস নিয়ে সারাক্ষণ পড়ে থাকা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি অতীতকে ভুলে যাওয়াও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের পথ নির্মাণ করতে হবে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই, আর ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার সংগ্রাম। একইভাবে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা দেশের ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’
বক্তব্যের একপর্যায়ে এমপি মতিয়ার রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যতে কেউ যেন জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে কিংবা দেশকে পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি দৃঢ় উচ্চারণে বলেন, ‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ।’ ৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনা ধারণ করে দেশপ্রেম, গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে জাতীয়ভাবে দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে গৃহীত কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন কোটচাঁদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র এস কে এম সালাহউদ্দিন বুলবুল সিডল, সাধারণ সম্পাদক এম এ কাশেম, কোটচাঁদপুরের মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদি হাসান, সিনিয়র বিএনপি নেতা মো. আবুবকর বিশ্বাস, উপজেলা জামায়াতের আমির মো. আজিজুর রহমান, থানা সেক্রেটারি শাহাবুদ্দিন খান, পৌর আমির মুহাদ্দিস আব্দুল কাইয়ুম এবং সাবেক সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক মুহা. শরিফুল ইসলাম।
এদিকে দিবসটি ঘিরে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। এর আগে এলাঙ্গী ইউনিয়ন বিএনপির প্রস্তুতি সভায় স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান সিদ্দিকী, যুবদলের আহ্বায়ক আশরাফুজ্জামান খান মুকুল, ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মজনু, দিবসের কর্মসূচি সফল করতে স্থানীয় পর্যায়ে অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরাও প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।
আলোচনা সভার আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিএনপির উপজেলা ও পৌর নেতাদের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
দিবসটির আগের দিন থেকেই কোটচাঁদপুর শহরকে সাজানো হয় ভিন্ন সাজে। বিভিন্ন সড়কে সাদা পতাকা ও সবুজ-রঙিন সাজসজ্জায় তৈরি হয় উৎসবের আবহ। অন্যদিকে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে পৌর শহরের মেইন বাজার চত্বরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরিবেশন করা হয় জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীত।
শহরের বিভিন্ন মোড়ে মাইকে প্রচারিত হয় দেশাত্মবোধক গান ও দলীয় সংগীত। সব মিলিয়ে ৭ নভেম্বরকে ঘিরে কোটচাঁদপুর শহরে সৃষ্টি হয় এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শীলা বেগম। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন আব্দুর রহমান এবং গীতা পাঠ করেন সুবাস কুমার রায়।
আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় জীবনে ঐক্য, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন। অতীতের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে বিভেদ ভুলে দেশ ও জনগণের কল্যাণে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তাঁরা।