বিশেষ প্রতিবেদক
৫ আগস্ট ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র আমূল বদলে গেছে। দেড় দশকের স্বৈরশাসনের পতনের পর দেশ এখন এক নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার অপেক্ষায়। তবে এই নতুন বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচারণায় যে কৌশলগুলো উঠে আসছে, তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে এক গভীর বিতর্ক। বিশেষ করে মাঠের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি’র নির্বাচনী বয়ান ও প্রচারণার ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, তরুণ ভোটার এবং সুশীল সমাজের একটি বড় অংশ। বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি বর্তমানে তাদের প্রচারণায় এমন কিছু ‘তত্ত্ব’ বা ‘ইস্যু’ সামনে আনছে যা ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৫ বছর ধরে ব্যবহার করে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে। শেখ হাসিনা যেভাবে জামায়াতে ইসলামীকে ‘রাজাকার’ বা ‘মুক্তিযুদ্ধবিরোধী’ তকমা দিয়ে কোণঠাসা করতে চেয়েছিলেন এবং ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ‘উন্নয়নের রূপকথা’ শুনিয়েছিলেন, সেই একই ধরনের অকার্যকর বয়ান এখন বিএনপির নেতাদের মুখে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
শেখ হাসিনা তার দীর্ঘ শাসনামলে জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিক ময়দান থেকে মুছে ফেলার জন্য সবচেয়ে বড় ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন ‘রাজাকার’ ইস্যুটিকে। ২০১০ সাল থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধাপরাধের বিচার এবং পরবর্তীতে রাজপথের প্রতিটি আন্দোলনে জামায়াতকে ‘৭১-এর প্রেতাত্মা’ হিসেবে চিত্রিত করার আপ্রাণ চেষ্টা ছিল আওয়ামী লীগের। তারা প্রচার করেছিল, জামায়াত ক্ষমতায় আসা মানেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস হওয়া। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে এই তত্ত্বের চূড়ান্ত মৃত্যু ঘটেছে।
লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মারুফ মল্লিক তিনি বিএনপির বর্তমান প্রচারণাকে আওয়ামী স্টাইলের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন: ‘বিএনপি রাজনীতির মাঠে আওয়ামী লীগের ইচ্ছার বাইরে এক পা-ও আগাতে পারছে না। যে বয়ান দিয়ে আওয়ামী লীগ গত ১৫ বছর টিকে থাকতে চেয়েছিল, বিএনপি যদি এখন সেই একই মৌলবাদ বা বিভাজনের তাস খেলে, তবে তারা সফল হবে না। তাদের উচিত নিজস্ব মেধা ও শক্তি ব্যবহার করে নতুন রাজনীতির সূচনা করা।’
যখন শেখ হাসিনা আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ বলে গালি দিয়েছিলেন, তখন তরুণ প্রজন্ম সেই ট্যাগিংকে উপহাস করে উল্টো স্লোগান দিয়েছিল— ‘আমি কে? তুমি কে? রাজাকার, রাজাকার’। এই স্লোগানটি একাত্তরের কোনো পক্ষ নেওয়া ছিল না, বরং এটি ছিল হাসিনাকেন্দ্রিক ‘বিভাজনের রাজনীতি’র প্রতি একটি সপাটে চড়। তরুণরা প্রমাণ করেছে, তারা অতীতের কোনো গ্লানি বা ট্যাগিং দিয়ে বর্তমানের লড়াইকে মূল্যায়ন করে না।
বর্তমানে বিএনপি যখন জামায়াতের রাজনৈতিক প্রভাব দেখে শঙ্কিত হয়ে পরোক্ষভাবে সেই একই ‘রাজাকার’ বা ‘মৌলবাদ’ ভীতি ছড়াচ্ছে, তখন সাধারণ মানুষ একে আওয়ামী লীগের ‘বি-টিম’ সুলভ আচরণ হিসেবে দেখছে। বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের কর্মীরা যখন রাজপথে সাধারণ ছাত্রদের সাথে জীবন দিল, তখন তাদের রাজাকার বলে গালি দেওয়াটা এখন জনগণের কাছে হাস্যকর ও রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া প্রতীয়মান হচ্ছে।
টিভি উপস্থাপক জিল্লুর রহমান মনে করেন, ‘৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে গেছে। বিএনপি এখন জামায়াতকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে যে আক্রমণাত্মক ও নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছে, তা মূলত আওয়ামী লীগের ফেলে দেওয়া অস্ত্র। ভোটাররা এখন ডেটা এবং পলিসি দেখতে চায়, পুরোনো কাসুন্দি নয়।
নৃবিজ্ঞানী ও বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরীন মনে করেন, ‘বিএনপি যখন নারীদের প্রতি জামায়াতের অবস্থান বা মৌলবাদ নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন সাধারণ মানুষের মনে হয় তারা আওয়ামী লীগের সেই পুরোনো 'জঙ্গি নাটকের' নতুন সংস্করণ মঞ্চস্থ করছে। এটি দিয়ে জামায়াতকে ঘায়েল করা সম্ভব নয়, বরং বিএনপির নিজস্ব অবস্থানই প্রশ্নবিদ্ধ হয়।’
২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনের সময় একটি কৌতূহলোদ্দীপক ঘটনা ঘটেছিল। তৎকালীন ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগ ও বামপন্থী সংগঠনগুলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে একটি ভীতি ঢোকানোর চেষ্টা করেছিল ‘শিবির গোপন রাজনীতি করছে’। সে সময় শিবির সন্দেহে যারে তারে মেরে ফেলা যেন ‘বৈধ’ ছিল। এই ‘গোপন’ বা ‘গুপ্ত’ রাজনীতির তত্ত্বটি তখন সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রত্যাখ্যান করেছিল। এর পরিবর্তে তারা কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ভিপি নুর ও তার পরিষদকে বেছে নিয়েছিল।
কিন্তু ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্র শিবিরের প্রার্থীদের ছাত্রলীগ সংযোগ প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে ছাত্রদল। তারা শিবিরকে গুপ্ত বলে স্লোগানও দেয়। কিন্তু ছাত্রদলের সেই বয়ান গ্রহণ করেনি সাধারণ শিক্ষার্থী বরং ছাত্রশিবিরের কাছেই আস্থা রাখে। শুধু ডাকসু নয় পরবর্তী ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবির জয় ছাত্রদলের সব তত্ত্বকে ভুল প্রমাণ করেছে। এত কিছুর পরেও জাতীয় নির্বাচনের প্রচারে বিএনপি সেই পুরনো রেকর্ড বাজাচ্ছে। তারা প্রচার করছে , জামায়াত-শিবির একটি ‘গোপন বা গুপ্ত’ সংগঠন। তারা আওয়ামী লীগের সাথে মিশে ছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ৫ আগস্টের পর জামায়াতই একমাত্র দল যারা সবচেয়ে সুশৃঙ্খলভাবে এবং স্বচ্ছতার সাথে রাজপথে তাদের কর্মসূচি পালন করছে। তাদের ত্রাণ কার্যক্রম এবং মন্দির পাহারার মতো বিষয়গুলো যখন মানুষের প্রশংসা কুড়াচ্ছে, তখন বিএনপি’র এই ‘গুপ্ত’ তত্ত্ব কেবল তাদের প্রচারণার দুর্বলতাকেই প্রকাশ করছে।
রাষ্ট্রচিন্তক অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খানের ভাষায়, ‘হাসিনাকেন্দ্রিক বিভাজনের রাজনীতি তরুণ প্রজন্ম ২০২৪ সালেই প্রত্যাখ্যান করেছে। বিএনপি যদি এখন জামায়াত বা অন্য কোনো শক্তিকে দমনের জন্য সেই একই 'ব্যর্থ বয়ান' বা আন্তর্জাতিক শক্তির দোহাই পাড়ে, তবে তারা আসলে নিজেদের দেউলিয়াত্বই প্রকাশ করবে। তরুণরা ট্যাগিং নয়, বরং ইনক্লুসিভ রাজনীতি চায়।’
শেখ হাসিনা বলতেন, ‘উন্নয়ন আগে, গণতন্ত্র পরে’। তিনি পদ্মা সেতু আর মেট্রো রেলের গালভরা গল্প শুনিয়ে মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করাকে জায়েজ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সীমাহীন দুর্নীতি, অর্থ পাচার আর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির নিচে সেই উন্নয়নের রঙিন বেলুন শেষ পর্যন্ত ফুটে গেছে। মানুষ বুঝেছে, জবাবদিহিতাহীন উন্নয়ন আসলে এক প্রকার বিষবৃক্ষ।
বিএনপি এখন তাদের প্রচারণায় আওয়ামী লীগের সেই ‘উন্নয়ন’ তত্ত্বের বিপরীতে কোনো শক্তিশালী অর্থনৈতিক মডেল বা সংস্কারের রূপরেখা দিতে পারছে না। বরং তারা বলছে— ‘আমরা ক্ষমতায় এলে দেশ বদলে দেব’। এটিও আওয়ামী লীগের সেই ফাঁকা বুলি বা ‘রূপকল্প ২০৪১’-এর মতোই শোনাচ্ছে। মানুষ এখন কেবল প্রতিশ্রুতি শুনতে চায় না, তারা চায় সুনির্দিষ্ট রূপরেখা। বিএনপি যেভাবে কেবল ‘আমরা নির্যাতিত’ এবং ‘আমরাই বিকল্প’—এই সস্তা আবেগ দিয়ে ভোট পেতে চাইছে, তা মূলত আওয়ামী লীগের সেই ব্যর্থ উন্নয়ন তত্ত্বেরই এক ভিন্ন রূপ।
নির্বাচনে প্রচারণায় অতি সম্প্রতি আর একটি তত্ত্ব সামনে এনেছে বিএনপি। জামায়াত নারীদের ঘরে বন্দী করে রাখতে চায়। তারা মা বোনের সম্মান দেয় না। এটা আওয়ামী লীগে জঙ্গি নাটকের প্রাথমিক রূপ মনে করছেন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে এটা করে জামায়াতকে ঘায়েল করা যাবে না বরং এর বিপরীত অবস্থা তৈরি হতে পারে।
এমনতেই ৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর উত্থান বিএনপিকে এক প্রকার স্নায়বিক চাপের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এক সময়কার মিত্র জামায়াত এখন বিএনপির প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই ভীতি থেকেই বিএনপি এখন এমন সব মিত্রের সাথে হাত মেলাচ্ছে বা এমন সব বক্তব্য দিচ্ছে যা মূলত সমাজের ভেতর বিভাজন তৈরি করে।
বিএনপি নেতারা বিভিন্ন জনসভায় বলছেন, ‘মৌলবাদী শক্তির উত্থান রুখতে হবে’। অদ্ভুত বিষয় হলো, এই একই ভাষা শেখ হাসিনা ব্যবহার করতেন আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন পাওয়ার জন্য। বিএনপি এখন সেই একই ‘ব্যর্থ আন্তর্জাতিক কার্ড’ খেলছে। তারা হয়তো মনে করছে, জামায়াতকে মৌলবাদী বা উগ্রপন্থী হিসেবে চিত্রিত করতে পারলে ভারত বা পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থন পাওয়া সহজ হবে। কিন্তু এদেশের মানুষ এখন আর এই ‘ইজম’ বা ‘বাদ’-এর রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তারা দেখেছে, আওয়ামী লীগ এই মৌলবাদ কার্ড খেলেই দেশটাকে ভারতের করদরাজ্যে পরিণত করেছিল।
বাংলাদেশের বর্তমান ভোটার তালিকার প্রায় ৪ কোটি ভোটার তরুণ। এই তরুণরা রাজপথে রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদ হটিয়েছে। তাদের আকাঙ্ক্ষা হলো—একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ। তারা এমন এক রাজনীতি চায় যেখানে দলের চেয়ে দেশ বড় হবে। বিএনপি যখন তাদের নির্বাচনী ইশতেহার বা প্রচারণায় পুরনো আমলের সেই প্রতিহিংসার সুর ধরে রাখে কিংবা জামায়াতকে ঘায়েল করতে মুক্তিযুদ্ধকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, তখন তরুণরা নিজেদের সাথে এই রাজনীতির কোনো যোগসূত্র খুঁজে পায় না।
তরুণদের মতে, “বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের মতোই ট্যাগিংয়ের রাজনীতি করে, তবে আমাদের বিপ্লব বৃথা।” বিএনপি বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া বা রাজপথের প্রচারণায় যে ‘ফ্যাসিস্ট’ সুরের অনুকরণ করছে, তা তাদের তরুণ ভোটব্যাংকে বড় ফাটল ধরাতে পারে। মানুষ এখন বিভাজন নয়, ঐক্য চায়। বিএনপি’র বর্তমান প্রচারণায় ঐক্যের চেয়ে বরং জামায়াতকে হারানোর বা অন্যকে ছোট করার প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগের পতনের পর ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের আমূল পরিবর্তন এসেছে। ভারত সবসময় জামায়াতকে তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে। বিএনপি হয়তো এখন সেই সুযোগটি নিতে চাচ্ছে। তারা ভারতের কাছে নিজেদের ‘আদর্শিক বিকল্প’ হিসেবে তুলে ধরার জন্য জামায়াতবিরোধী বয়ান তৈরি করছে। কিন্তু ৫ আগস্ট পরবর্তী জনগণের সেন্টিমেন্ট হলো—আমরা কোনো পরাশক্তির মুখাপেক্ষী হতে চাই না। বিএনপি যখন ভারতের গুডবুকে নাম লেখানোর জন্য জামায়াতকে ‘উন্নয়নবিরোধী’ বা ‘অস্থিরতাকারী’ হিসেবে প্রমাণ করতে চায়, তখন তারা আসলে নিজেদের সার্বভৌমত্বের অবস্থানকেই দুর্বল করছে।
আধুনিক বিশ্বে নির্বাচন মানে হলো ডেটা, পলিসি এবং ক্রিয়েটিভ ক্যাম্পেইন। বিএনপি’র প্রচারণায় এর কোনোটিই নেই। তারা এখনো সেই ১৯৯১ বা ২০০১ সালের স্টাইলে প্রচারণা চালাচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সুশৃঙ্খল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জনগণের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে। বিএনপি যখন কৌশলগতভাবে পিছিয়ে পড়ছে, তখন তারা সহজ পথ হিসেবে বেছে নিচ্ছে আওয়ামী লীগের সেই পুরনো অস্ত্রগুলো—যথা রাজাকার গালি, মুক্তিযুদ্ধ চেতনা এবং মৌলবাদ ভীতি। কিন্তু এই অস্ত্রগুলো যে এখন ভোঁতা হয়ে গেছে, তা বিএনপি’র নীতিনির্ধারকরা বুঝতে পারছেন না।
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে দেখা গেছে, কোনো দল যখন অন্যকে ধ্বংস করার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নেয় বা অপ্রাসঙ্গিক ইস্যু সামনে আনে, তখন জনগণ তাকে প্রত্যাখ্যান করে। শেখ হাসিনা জামায়াতকে ‘রাজাকার’ আর ‘জঙ্গি’ বানিয়ে ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আজ জামায়াত আরও শক্তিশালী। বিএনপি যদি আজ জামায়াতকে ঘায়েল করতে সেই একই ‘ব্যর্থ তত্ত্ব’ ব্যবহার করে, তবে তারা কেবল জামায়াতেরই উপকার করছে এবং নিজেদের পতন ত্বরান্বিত করছে।
নির্বাচনী প্রচারণায় প্রয়োজন বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা এবং বিকল্প সমাধানের প্রস্তাব। বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের সেই পদাঙ্ক অনুসরণ করে বিভাজন ও ঘৃণার রাজনীতিই চালিয়ে যায়, তবে ২০২৪-এর বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশ তাদের ক্ষমা করবে না। ভোটের লড়াইয়ে বিএনপি যদি এই ‘ব্যর্থ তত্ত্ব’ থেকে বেরিয়ে এসে নতুন এবং ইতিবাচক কোনো রাজনীতির সূচনা করতে না পারে, তবে আসন্ন নির্বাচনে তাদের জন্য এক বড় পরাজয় বা রাজনৈতিক অপ্রাসঙ্গিকতা অপেক্ষা করছে।