Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

ভারত, চীন ও পাকিস্তানের চোখে বাংলাদেশের নির্বাচন

আল জাজিরা আল জাজিরা
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি,২০২৬, ০৬:২১ এ এম
ভারত, চীন ও পাকিস্তানের চোখে বাংলাদেশের নির্বাচন

বাংলাদেশে তারুণ্যের জয়োল্লাস ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রায় দুই বছর পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

২০২৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। এই পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান ও চীন।

বাংলাদেশ বর্তমানে নোবেল বিজয়ী ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। চলতি মাসের এই নির্বাচনে ক্ষমতার লড়াইয়ে থাকা প্রধান দুটি দল হলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ (জেআইবি), যারা জানুয়ারির শেষের দিকে তাদের প্রচারণা শুরু করেছে।

আওয়ামী লীগ, যারা ঐতিহাসিকভাবে ভারতের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিল, ২০২৪ সালের ছাত্র-আন্দোলনে নৃশংস দমন-পীড়নের ভূমিকার কারণে এই নির্বাচনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে ভারতে নির্বাসিত ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনাকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, যে সহিংসতায় প্রায় ১,৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।

গত বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) তার অনুপস্থিতিতে বিচার কার্য পরিচালনা করে এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। তবে ভারত এখন পর্যন্ত তাকে প্রত্যর্পণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। শেখ হাসিনা এই আসন্ন নির্বাচনের নিন্দা জানিয়ে গত মাসে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেছেন, "বর্জন থেকে জন্ম নেওয়া কোনো সরকার একটি বিভক্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে না।"

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতাচ্যুতির পর বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানে এক বিশাল পরিবর্তন এসেছে। ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের গ্লোবাল স্টাডিজ অ্যান্ড গভর্ন্যান্সের প্রভাষক খন্দকার তাহমিদ রেজওয়ান আল জাজিরাকে বলেন, "ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক অবনতি ঘটলেও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। এছাড়া চীনের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্কও উল্লেখযোগ্যভাবে গভীর হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "[হাসিনার] ১৫ বছরের শাসনকাল ঢাকা’র পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতির ক্ষেত্রে কয়েকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে চিহ্নিত ছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ভারতের সঙ্গে একটি ঘনিষ্ঠ ও সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তোলা; পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কৌশলগত অবহেলা ও কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা বজায় রাখা; এবং চীনের সঙ্গে একটি শক্তিশালী কিন্তু নিয়ন্ত্রিত প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও অবকাঠামো উন্নয়ন অংশীদারিত্ব বজায় রাখা।"

তিনি বলেন, "ঢাকার এই অনুমেয় এবং নির্দিষ্ট ঘরানার মিত্রতা এখন ভারত ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিপরীত হয়েছে এবং চীনের ক্ষেত্রে আরও পরিমার্জিত হয়েছে।"

তাহলে ভারত, পাকিস্তান ও চীন এই আসন্ন নির্বাচনকে কীভাবে দেখছে? নির্বাচনের ফলাফল কি এই তিন জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ? 

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কেমন?
হাসিনার পতন পর্যন্ত ভারত মূলত বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার এবং মিত্র হিসেবে দেখেছে।

ভারত এশিয়ায় বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারও বটে। হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির আগে, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের মার্চের মধ্যে ভারত ১১.১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য (টেক্সটাইল, চা, কফি, অটো পার্টস, বিদ্যুৎ, কৃষি, লোহা ও ইস্পাত এবং প্লাস্টিক) বিক্রি করেছে এবং ১.৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক ও চামড়াজাত পণ্য আমদানি করেছে।

হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে চলমান উত্তজনাজনিত কারণে উভয় দেশই একে অপরের রপ্তানির ওপর স্থল ও নৌপথে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত সমর্থন দেওয়ার পর থেকে গত কয়েক দশকে ঢাকার ক্ষমতায় কোন রাজনৈতিক দল রয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে এই সম্পর্কের চড়াই-উতরাই দেখা গেছে।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ এবং আবারও ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা হাসিনা ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২০ সালের মার্চ মাসে বলেছিলেন, "গত পাঁচ থেকে ছয় বছরে ভারত ও বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি সোনালী অধ্যায় লিখেছে এবং আমাদের অংশীদারিত্বকে একটি নতুন মাত্রা ও দিক নির্দেশনা দিয়েছে।"

কিন্তু বাংলাদেশের বিরোধী দলগুলো ভারতের সঙ্গে ডিল করার ক্ষেত্রে হাসিনাকে প্রায়ই "খুব দুর্বল" হিসেবে সমালোচনা করত। ভারতীয় দৈনিক 'ইকোনমিক টাইমস'-এর মতে, ২০১৬ সালে বিএনপির একজন প্রভাবশালী উপদেষ্টা হাসিনাকে ভারতের সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু যৌথ বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের আহ্বান জানিয়েছিলেন, কারণ সেগুলো বাংলাদেশের পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারত।

কয়েক দশক ধরে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর জোট ছিল। জামায়াত বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামপন্থী দল যারা ভারতের চিরশত্রু পাকিস্তানের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্কের পক্ষে কথা বলে এবং যারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাছ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল।

২০২৪ সালে হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি এবং ভারতকে তাকে ফেরত দিতে অস্বীকার করার পর বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব আরও তীব্র হয়েছে। গত এক বছরে দুই দেশের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়েছে, বিশেষ করে ভারতবিরোধী কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত ২০২৪ সালের আন্দোলনের অন্যতম নেতা ওসমান হাদির হত্যার পর, যা গত বছরের শেষের দিকে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী বিক্ষোভের জন্ম দেয়।

ভারত বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগও তুলেছে। গত ডিসেম্বরে ইসলামের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে ভালুকা অঞ্চলে এক হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনাটি ঘটেছিল হাদির মৃত্যুর পর দেশব্যাপী উত্তজনা চলাকালীন সময়ে।

এছাড়াও গত মাসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতে নির্ধারিত আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছিল। কিন্তু গত সপ্তাহান্তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এই দাবির জবাবে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকেই বহিষ্কার করে। এর সংহতি প্রকাশ করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) দ্রুত বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায় এবং গত রবিবার পাকিস্তান জানায় যে, তারা ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে অংশ নেবে না।

আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান আল জাজিরাকে বলেন, "হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় ভারত একটি উল্লেখযোগ্য কৌশলগত ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে তারা খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে না। নয়াদিল্লি মনে করে যে বাংলাদেশ জামায়াত এবং অন্যান্য ধর্মীয় শক্তির দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত, যা ভারতের দৃষ্টিতে তাদের স্বার্থের জন্য হুমকি স্বরূপ।"

তবে চলমান উত্তজনা সত্ত্বেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ডক্টর ইউনুস গত বছরের এপ্রিলে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের সাইডলাইনে তাদের প্রথম বৈঠক করেন। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি সাংবাদিকদের জানান যে, মোদী "গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।" মিসরি আরও যোগ করেন যে, ডক্টর ইউনুস এবং মোদী হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়েও আলোচনা করেছেন। তবে আজ পর্যন্ত হাসিনা ভারতেই অবস্থান করছেন।

আসন্ন নির্বাচনকে ভারত কীভাবে দেখছে?
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের জন্য এখানে অনেক কিছু ঝুঁকির মুখে রয়েছে। কুগেলম্যান বলেন, "ভারত আশা করছে যে এই আসন্ন নির্বাচন এমন একটি সরকার উপহার দেবে যারা ভারতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে আগ্রহী হবে এবং এমন কোনো শক্তির দ্বারা প্রভাবিত হবে না যাকে ভারত তাদের স্বার্থের জন্য হুমকি মনে করে।"

ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির রেজওয়ান বলেন, নতুন কোনো সরকারের পক্ষে ভারতের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা উপেক্ষা করা সম্ভব হবে না, এমনকি যদি সেখানে জামায়াত বা অন্যান্য ইসলামপন্থী দল অন্তর্ভুক্ত থাকে। তিনি বলেন, "ঢাকায় ক্ষমতায় আসা যেকোনো সরকারের পক্ষেই পারস্পরিক স্বার্থ, যেমন— অপ্রথাগত নিরাপত্তা হুমকি, বাণিজ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা এবং সাংস্কৃতিক ও মানবিক সম্পর্কের খাতিরে ভারতের মতো বৃহত্তম প্রতিবেশী এবং আঞ্চলিক শক্তিকে অবহেলা করা কঠিন হবে।"

ভারতের 'প্রতিবেশী প্রথম' (Neighbourhood First) নীতি দ্বারা পরিচালিত হয়ে ভারতীয় নীতি-নির্ধারকরা প্রায়ই জোর দিয়েছেন যে উপমহাদেশের স্থিতিশীলতার জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন। গত মাসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের জন্য "শুভকামনা" জানিয়েছেন।

জয়শঙ্কর জানুয়ারির শুরুতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় যোগ দিতে ঢাকা সফর করেছিলেন। পরে তিনি এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লেখেন যে, তিনি ভারতের পক্ষ থেকে জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের কাছে সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে "বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ও মূল্যবোধ [ভারত ও বাংলাদেশের] অংশীদারিত্বের উন্নয়নে পথ দেখাবে।"

কুগেলম্যানের মতে, জামায়াত নির্বাচনে জিতলে ভারত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্বিগ্ন হতে পারে, তবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে তারা "স্বাচ্ছন্দ্য" বোধ করবে। তিনি উল্লেখ করেন, "আজকের বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের আর জোট নেই এবং দলটি ভারতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমি মনে করি ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে ভেঙে যাওয়া সম্পর্কের সুতো জোড়া দিতে প্রস্তুত হবে... স্পষ্টতই তারা আওয়ামী লীগকে পরবর্তী সরকারে দেখতে পছন্দ করত। কিন্তু ভারত এটাও স্বীকার করে যে আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময়ের জন্য কোনো রাজনৈতিক ফ্যাক্টর হতে পারবে না এবং তারা আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টাও করবে না। তারা বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে মেনে নেবে এবং তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী হবে।"

তবে জনমত জরিপ অনুযায়ী জামায়াত এবং বিএনপি সমানে সমান লড়াইয়ে থাকায় ভারত উভয়ের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখছে। এ মাসের এক সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান প্রকাশ করেছেন যে গত ডিসেম্বরে একজন ভারতীয় কূটনীতিক তার সঙ্গে দেখা করেছেন। এছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা ১০ জানুয়ারি বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্ক কেমন?
হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও উষ্ণ হয়েছে। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে ডক্টর ইউনুসের সঙ্গে দুবার বৈঠক করেছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার ঢাকা সফর করেন।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের পর পাকিস্তান মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র হিসেবে গঠিত হয়েছিল, যার দুটি ভৌগোলিক অংশ ছিল এবং বাংলাদেশ তখন পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিচিত ছিল। ১৯৭১ সালে ভারত বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামে সমর্থন দিয়েছিল যেখানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী গণহত্যা ও নির্যাতন চালিয়েছিল। বাংলাদেশ আজও পাকিস্তানের কাছ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা দাবি করে আসছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ডক্টর ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির চেষ্টা করছে। গত ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশ ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো সরাসরি বাণিজ্য শুরু করে। গত সপ্তাহে তারা ১৪ বছর পর সরাসরি বিমান চলাচল শুরু করেছে। সামরিক ও প্রতিরক্ষা সংলাপও অনুষ্ঠিত হয়েছে গত এক বছরে।

রেজওয়ান বলেন, "পাকিস্তান মূলত প্রতিরক্ষা এবং সাংস্কৃতিক কূটনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়তে চায়। কারণ প্রকৃতপক্ষে তাদের নিজস্ব অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে দেওয়ার মতো খুব সামান্যই তাদের আছে। এর মাধ্যমে তারা ঢাকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলে ভারতের পূর্ব দিকে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়াতে চায়।"

আসন্ন নির্বাচনকে পাকিস্তান কীভাবে দেখছে?
কুগেলম্যানের মতে, আসন্ন নির্বাচনে প্রধান দুটি দলের যে কোনো একটি ক্ষমতায় এলেই পাকিস্তান খুশি হবে, তবে জামায়াতের বিজয় হবে তাদের জন্য আদর্শ। তিনি বলেন, "পাকিস্তান স্পষ্টতই একমাত্র আঞ্চলিক দেশ যারা জামায়াত সরকারকে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করবে।"

তিনি আরও সতর্ক করেন যে, ইসলামাবাদ এটা নিশ্চিত করতে চাইবে যেন বিএনপি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা না করে। কারণ সেটি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য ইসলামাবাদের সাম্প্রতিক প্রচেষ্টাকে ম্লান করে দেবে।

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক কেমন?
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব বাড়ছে এবং দেশটি বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ১৯৭১ সালে চীন পাকিস্তানের পক্ষ নিলেও ১৯৭৫ সাল থেকে দুই দেশ কূটনৈতিক অংশীদার এবং বেইজিং ঢাকার ক্ষমতায় যে দলই থাকুক না কেন, তাদের সঙ্গে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

হাসিনার অধীনে দুই দেশ বেশ কিছু অর্থনৈতিক চুক্তি সই করেছিল। সেই ধারা ডক্টর ইউনূসের অধীনেও অব্যাহত রয়েছে, যার প্রশাসন প্রায় ২.১ বিলিয়ন ডলারের চীনা বিনিয়োগ, ঋণ ও অনুদান নিশ্চিত করেছে। গত বছর ইউনূস তার চীন সফরের সময় যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার কথা জানিয়েছিলেন।

রেজওয়ান বলেন, "চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হাসিনার শাসনামলে শক্তিশালী ছিল এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের অধীনে তা আরও শক্তিশালী হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে নির্বাচনের পর যে-ই ক্ষমতায় আসুক না কেন এটি তেমনই থাকবে।"

আসন্ন নির্বাচনকে চীন কীভাবে দেখছে?
চীন সক্রিয় আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। গত এক বছরে চীনা নেতারা নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। গত বছরের এপ্রিলে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল জামায়াতের সঙ্গে বৈঠক করে। জুনে চীনা পররাষ্ট্র বিষয়ক উপমন্ত্রী সান উইডং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে দেখা করেন।

কুগেলম্যান বলেন, চীন নির্বাচনকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে কারণ তারা বাংলাদেশকে একটি প্রধান বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদার হিসেবে দেখে। বেইজিং চায় না যে বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বা নিরাপত্তা সমস্যা সেখানে তাদের স্বার্থকে প্রভাবিত করুক।

রেজওয়ান বলেন, চীনের জন্য এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ কারণ তারা দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত প্রভাব চায়, যে অঞ্চলটি দীর্ঘকাল ধরে ভারতের প্রভাব বলয় হিসেবে বিবেচিত। তবে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে চীনের কোনো সুনির্দিষ্ট পছন্দ নেই। যিনিই জিতবেন, চীন তাকেই পূর্ণ সমর্থন দেবে। রেজওয়ান আরও যোগ করেন, "চীনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া এবং সরকার গঠন করা দলের ওপর যেন মার্কিন কোনো প্রভাব না থাকে তা নিশ্চিত করা।"

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)