নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মদনপুর গ্রামে প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ আরিফুর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত তার স্ত্রী শেফালি খাতুন আসমা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পারিবারিক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ঝগড়ার একপর্যায়ে ধাক্কা দিলে খাটের সঙ্গে মাথায় আঘাত লেগে দুর্ঘটনাবশত তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি আদালতের কাছে স্বীকার করেছেন।
বুধবার (৮ জুলাই) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবা শারমিন আসামির এই স্বীকারোক্তি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অভিযুক্ত শেফালি খাতুন মৃত আরিফুর রহমানের স্ত্রী এবং একই গ্রামের মাওলা বক্স বিশ্বাসের মেয়ে।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত আরিফুর রহমান শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তাদের ৪০ বছরের দাম্পত্য জীবন। সাম্প্রতিক সময়ে দুই ছেলের নামে জমি লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র মনোমালিন্য চলছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় এই নিয়ে তাদের মধ্যে আবারও বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
জবানবন্দিতে আসামি শেফালি খাতুন দাবি করেন, ঝগড়ার একপর্যায়ে তার স্বামী তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি পাল্টা স্বামীকে ধাক্কা দিলে তিনি ঘরের খাটের ওপর ছিটকে পড়েন এবং মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পান। এরপর শেফালি বেগম ঘরের দৈনন্দিন কাজকর্ম শেষ করে পরে বারান্দায় এসে স্বামীকে অচেতন ও মৃতবৎ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আরিফুর রহমানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, খবর পেয়ে মণিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। নিহতের কপালে ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় নিহতের ভাই মতিয়ার রহমান বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মণিরামপুর থানা পুলিশ জানায়, ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে নিহতের স্ত্রী শেফালি বেগমকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার পুলিশ তাকে আদালতে সোপর্দ করলে তিনি স্বেচ্ছায় এই অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ বা অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষা করছে পুলিশ।