নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের শার্শায় দশম শ্রেণির এক মাদ্রাসা ছাত্রকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা প্রদানের অভিযোগে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ডসহ চারজনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) সাজাপ্রাপ্ত ছাত্রের পিতা ও আন্দোলপোতা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সালাম এই অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিযোগকারীর আইনজীবী শেখ তাজ হোসেন তাজু।
অভিযুক্তরা হলেন— শার্শা উপজেলার এসি ল্যান্ড মো. নিয়াজ মাখদুম, শার্শা থানার এএসআই শাহিন, এসি ল্যান্ড অফিসের পেশকার রোকনুজ্জামান এবং নাজির কাম ক্যাশিয়ার সালাউদ্দিন কাওছার।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সাজাপ্রাপ্ত কিশোর আব্দুল্লাহ লক্ষণপুর দারুল হাকিম মাদ্রাসার ১০ম শ্রেণির ছাত্র। গত ১১ জুন শার্শার নাভারণ পুরাতন বাজার থেকে আব্দুল্লাহকেআটক করেন এএসআই শাহিন।পরবর্তীতে আব্দুল্লাহর কাছ থেকে গাঁজা উদ্ধার দেখানো হয় এবং তাকে শার্শা উপজেলার এসি ল্যান্ড মো. নিয়াজ মাখদুমের ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করা হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়, কোনো প্রকার বয়স যাচাই-বাছাই ছাড়াই কিশোর আব্দুল্লাহকে দোষী সাব্যস্ত করে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
এদিকে মামলার আপিল করার উদ্দেশ্যে গত ১৫ জুন ভুক্তভোগীর পিতা এবং ২৮ জুন আইনজীবীর মাধ্যমে যশোর জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের ই-সেবা কেন্দ্রে মামলার সার্টিফাইড কপির (নকল) আবেদন করা হয়। পরদিন আবেদনটি শার্শা এসি ল্যান্ড অফিসে পৌঁছালে আব্দুস সালাম সেখানে যান। কিন্তু এসি ল্যান্ড অফিসের পেশকার রোকনুজ্জামান ও নাজির কাম ক্যাশিয়ার সালাউদ্দিন কাওছার তার সাথে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করেন এবং পরবর্তীতে অফিসে আসতে নিষেধ করেন। নিয়মতান্ত্রিকভাবে মামলার নকল পেতে ব্যর্থ হয়ে তিনি অবশেষে জেলা প্রশাসকের দ্বারস্থ হয়েছেন।
এসি ল্যান্ডের বক্তব্য: অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে শার্শা উপজেলার এসি ল্যান্ড মো. নিয়াজ মাখদুম জানান, থানা পুলিশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে আটক ওই যুবককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করেছিল। পুলিশের দেওয়া প্রতিবেদনে তার বয়স ১৮ বছরের উপরে উল্লেখ ছিল। তাছাড়া আটক যুবক নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিল এবং তার কাছে গাঁজা পাওয়া গিয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতে আটক যুবক নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ায় তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তার বয়স ১৮ বছরের কম না বেশি, তা যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয়নি। এই সাজার বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রয়েছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার ইতিমধ্যে আপিল করেছেন। সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলার প্রয়োজনীয় কপিও প্রেরণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।