ক্রীড়া ডেস্ক
ব্রুনো গিমারায়েস ম্যাচের লিডসূচক পেনাল্টি মিস করেন ছবি: এপি
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ফুটবল বিশ্বে এখন একটাই বড় প্রশ্ন—ম্যাচের সেই মহাগুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পেনাল্টি শটটি কেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র নিলেন না? কোটি ভক্তের মন ভেঙে দেওয়া সেই সিদ্ধান্তের পেছনের আসল রহস্য এবার উন্মোচন করলেন সেলেসাওদের হেড কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে আনচেলত্তি জানান, মাঠে ভিনির পেনাল্টি না নেওয়াটা কোনো হুট করে নেওয়া সিদ্ধান্ত বা ইমোশনাল চয়েস ছিল না। এর পেছনে ছিল কোণাকুণি বিশ্লেষণ এবং নিরেট স্ট্যাটস বা পরিসংখ্যান।
কোচের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দলের পেনাল্টি টেকারদের তালিকায় সব হিসাব-নিকাশে শীর্ষে ছিলেন রাফিনিয়া। আর মাঠে থাকা অ্যাভেইলেবল ফুটবলারদের মধ্যে সফলতার দিক থেকে এগিয়ে ছিলেন নেইমার, ইগর থিয়াগো, ব্রুনো গিমারায়েস ও গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি। পেনাল্টির ওই নির্দিষ্ট মুহূর্তে কোচিং স্টাফদের ডেটা অ্যানালাইসিস অনুযায়ী পিচে থাকা সেরা অপশন ছিলেন ব্রুনো গিমারায়েস।
অনেকেই ধারণা করেছিলেন, অতিরিক্ত প্রেশার কিংবা কনফিডেন্সের ঘাটতির কারণে হয়তো ভিনিসিয়ুস শট নেননি। তবে আনচেলত্তির বক্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কোনো মানসিক চাপ নয়, বরং কোচিং স্টাফদের ডেটা-ড্রিভেন গেমপ্ল্যান অনুযায়ী ব্রুনোই ছিলেন ফার্স্ট চয়েস।
পেনাল্টি শট নিজে না নেওয়া নিয়ে ম্যাচ শেষে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বলেন,
“কোচ আগে থেকেই ঠিক করে দেন পেনাল্টি কিক কে নেবে। তিনি ব্রুনোকে বেছে নিয়েছিলেন। আমি কখনও অহংকারী ছিলাম না, প্রতিযোগীতার সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার ইচ্ছাও আমার কখনও ছিলো না, সে কারণেই ব্রুনো পেনাল্টি নিয়েছিলো।“
ফুটবল মাঠে নিখুঁত লজিক্যাল সিদ্ধান্তও যে কখনো কখনো ম্যাচ শেষে কতটা বড় ডিবেট বা বিতর্কের জন্ম দিতে পারে, ব্রাজিলের এই বিদায় যেন তারই এক ক্লাসিক উদাহরণ।