ক্রীড়া ডেস্ক
অশ্রুসিক্ত চোখে মেটলাইফ স্টেডিয়াম থেকে বিদায় নেন নেইমার ছবি: গেটি ইমেজেস
মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে তখন পিনপতন নীরবতা। রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠে কান্নায় ভেঙে পড়লেন নেইমার জুনিয়র। সতীর্থরা এসে সান্ত্বনা দিচ্ছেন, কিন্তু ৩৪ বছর বয়সী এই মহাতারকার চোখ দিয়ে তখন ঝরছে এক যুগেরও বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষের জল। নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ রাউন্ড অফ সিক্সটিন (১৬) ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলো সেলেসাওরা। আর এই চরম বিপর্যয়ের পরই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঘোষণা দিলেন নেইমার।
ম্যাচ শেষে অশ্রুসিক্ত চোখে ‘গ্লোবো’কে নেইমার বলেন:
"আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু এবার সত্যিই সব শেষ। যে মাঠ থেকে শুরু করেছিলাম, সেখানেই শেষ করলাম।"
২০১০ সালের আগস্টে এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (ইউনাইটেড স্টেটস) বিরুদ্ধে ফ্রেন্ডলি ম্যাচ দিয়ে ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল তরুণ নেইমারের। সেদিন গোলও পেয়েছিলেন। আর দীর্ঘ ১৬ বছর পর সেই একই মাঠেই শেষ হলো তার বর্ণিল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে এটিই ব্রাজিলের সবচেয়ে দ্রুততম বিদায়।
ম্যাচে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে যখন নরওয়ে ২-০ তে এগিয়ে, তখন একদম শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে ব্রাজিলের হয়ে একমাত্র সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেন নেইমার। আর এই গোলের মাধ্যমেই বেশ কিছু অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি:
ইনজুরির কারণে চলতি টুর্নামেন্টে ব্রাজিলের পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটিতে মাঠে নামতে পেরেছিলেন নেইমার। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে ১৫ মিনিট এবং নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের ৬৭ মিনিটে বদলি (বেন্চ) খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। দীর্ঘ এক দশক ধরে ব্রাজিলের প্রাণভোমরা হয়ে থাকা এই তারকা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বারবার চোটের শিকার হয়েছেন। নেইমারের এই বিদায়ের মাধ্যমে ব্রাজিল ফুটবলে এখন একটি নতুন প্রজন্মের অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে (নিউজ কনফারেন্স) ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেন:
"ফলাফলটি অত্যন্ত হতাশাজনক এবং আমরা সবাই গভীরভাবে ব্যথিত। তবে এই দলটা দারুণ পরিশ্রম করেছে। ফুটবল বা স্পোর্টসে মাঝেমধ্যে পরাজয়ের এই তেতো স্বাদ মেনে নিতেই হয়। আমরা এই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন অধ্যায়ের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করব।"