বেনাপোল প্রতিনিধি
ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরের শার্শা উপজেলায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন মোড় নিয়েছে। উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি জালাল উদ্দীনের নেতৃত্বে ছয়জন নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন।
সোমবার বিকেলে শার্শা উপজেলার গোড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নিজামপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় এই যোগদান কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে শার্শা আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমানের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে জালাল উদ্দীন ও তাঁর অনুসারীরা দলে যোগ দেন। এ সময় জামায়াতের স্থানীয় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
যোগদানকারী জালাল উদ্দীন জানান, জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ ও বর্তমান রাজনৈতিক কর্মসূচিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শার্শা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জামায়াতে ইসলামীর প্রতি সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদেরও আস্থা ও বিশ্বাস বাড়ছে। আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনায় জামায়াত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এই প্রত্যাশা থেকেই তারা দলে যোগ দিচ্ছেন। নির্বাচনের আগে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যান্য দল থেকেও আরও অনেকে জামায়াতে যোগ দেবেন বলে আমরা আশা করছি।
তবে এই যোগদান নিয়ে ভিন্ন দাবি করেছে স্থানীয় বিএনপি। নিজামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম মুঠোফোনে জানান, জালাল উদ্দীনকে নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গত ১৫ দিন আগেই জালাল উদ্দীনকে ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাই তার জামায়াতে যোগদানের সাথে বিএনপির সাংগঠনিক কোনো সম্পর্ক নেই।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোল শুরু হওয়ার পর শার্শার রাজনীতিতে এই দলবদল নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে ভোটারদের মধ্যে এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী দিনে এই নির্বাচনী এলাকায় বড় দুই জোটের শক্তির ভারসাম্য কোন দিকে যায়, তা নিয়ে এখন স্থানীয় চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা আলোচনা।