অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আসাদুজ্জামান জনি মুক্তি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আকরাম আক্তার কোরাইশী পাপ্পু ছবি: ধ্রুব নিউজ
অভয়নগর,যশোর: অভয়নগরে নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (স্থগিত পদ) আসাদুজ্জামান জনির স্থগিত হওয়া পদ পুনর্বহাল এবং কারাগার থেকে দ্রুত মুক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকালে নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবে ‘আসাদুজ্জামান জনি মুক্তি পরিষদ’-এর উদ্যোগে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এই জনির বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীকে বালুতে পুঁতে ৪ কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আসাদুজ্জামান জনি মুক্তি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আকরাম আক্তার কোরাইশী পাপ্পু। বক্তব্যে জনির বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগকে 'রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র' হিসেবে দাবি করে বলা হয়, গত ১৭ বছর ধরে আসাদুজ্জামান জনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং ১৮টি রাজনৈতিক মামলার শিকার হয়েছেন। মুক্তি পরিষদের দাবি, একটি কুচক্রী মহল জনির জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক অবস্থান নষ্ট করতে মিথ্যা চাঁদাবাজির নাটক সাজিয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে যশোর-৪ আসনে দলের জয় নিশ্চিত করতে জনির মতো 'কর্মীবান্ধব' নেতার মুক্তি অপরিহার্য বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
তবে আসাদুজ্জামান জনিকে নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা প্রধান অভিযোগ হলো, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নওয়াপাড়ার ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ কবীর টিপুকে অপহরণ করে ‘কনা ইকোপার্কে’ নিয়ে বুক সমান বালুতে পুঁতে রাখা এবং অস্ত্রের মুখে ৪ কোটি টাকা চাঁদা আদায়। এই শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে তার সাংগঠনিক পদ স্থগিত করে। তৎকালীন জেলা বিএনপি নেতারা জানিয়েছিলেন, জনির ব্যক্তিগত অপকর্মের দায় দল নেবে না। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট খুলনার সোনাডাঙ্গা থেকে যৌথ বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে এবং বর্তমানে তিনি এই চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জনির স্থগিত পদ ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানানো হয় এবং বিচার বিভাগের কাছে তার জামিনের দাবি জানানো হয়। অনুষ্ঠানে আসাদুজ্জামান জনি মুক্তি পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ আলী বেগ সোনা, নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুর রশিদ, জনির ভাই সাইফুজ্জামান টনিসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের একাংশের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ জনির নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা দেন, যদিও স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তাকে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও আতঙ্ক বিদ্যমান।