মতিউর রহমান, বাঘারপাড়া
যৌথবাহিনীর অভিযানে ১০ টি শক্তিশালী গ্রেনেড এবং ৩টি বিদেশি পিস্তলসহ বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার | ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরের বাঘারপাড়ায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে বিশাল এক অভিযান পরিচালনা করেছে যৌথ বাহিনী। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলের এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ১০টি শক্তিশালী গ্রেনেড এবং ৩টি বিদেশি পিস্তল।
শনিবার বিকেল ৩টা ৫০ মিনিট থেকে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (NSI)-এর একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়। বাঘারপাড়া উপজেলার ধলগ্রাম ইউনিয়নের দড়ি আগড়া গ্রামে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী এই অ্যাকশনে অংশ নেয়। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ওই গ্রামের বাসিন্দা চুন্নু মোল্লার বাড়ি।
সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন আকিবের নেতৃত্বে পরিচালিত এই তল্লাশিতে চুন্নু মোল্লার বসতবাড়ি থেকে নিম্নলিখিত মারণাস্ত্র ও সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়: ১০টি শক্তিশালী গ্রেনেড, ৩টি বিদেশি পিস্তল (৭.৬৫ এমএম, মেইড ইন ইউএসএ), ১৯ রাউন্ড পিস্তলের তাজা গুলি. ১টি চাপাতি, ১টি ছুরি ও ১টি খুর।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, অভিযান শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে বাড়ির সদস্যরা কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে চুন্নু মোল্লার ছেলে রায়হান মোল্লাকে (২৮) শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, রায়হানের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।
যৌথ বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, উদ্ধারকৃত গ্রেনেড ও বিদেশি পিস্তলগুলো জননিরাপত্তার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। প্রাথমিক তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় ধরনের কোনো রক্তক্ষয়ী নাশকতা ঘটানোর উদ্দেশ্যেই এই অস্ত্রভাণ্ডার গড়ে তোলা হয়েছিল।
ঘটনার পর থেকে এলাকাটিতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পলাতক রায়হান মোল্লা ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারে দড়ি আগড়া গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে যৌথ বাহিনীর জোরালো 'চিরুনি অভিযান' অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরাধীদের আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত এই তৎপরতা চলবে।