শেখ জালাল
হাসপাতালে পড়ে থাকা হাবিবার মরদেহ ছবি: ধ্রুব নিউজ
পরিচয় বলতে কেবল একটি নাম— ‘হাবিবা’। আর ঠিকানা বলতে অস্পষ্ট স্বরে উচ্চারিত ‘বরিশাল’। এটুকুই সম্বল করে দীর্ঘ ২৪ দিন হাসপাতালের বিছানায় কাতরাতে কাতরাতে চলে গেলে এক নারী। শনিবার দুপুরে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সাদা চাদরে ঢাকা নিথর দেহটি যখন মর্গের হিমঘরের দিকে যাচ্ছিল, তখন সেখানে কান্নার মতো কোনো আপনজন ছিল না। ছিল শুধু একরাশ নিস্তব্ধতা।
হাবিবার গল্পটা শুরু হয়েছিল গত ৭ জানুয়ারি। যশোর কোতোয়ালি থানার চাঁচড়া পুলেরহাট বাজারের ব্যস্ত রাস্তার ধারে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে ছিলেন এক তরুণী। পথচারীদের ভিড়ে মুন্তাকিম নামের এক সহৃদয় ব্যক্তির চোখে পড়ে তার এই অসহায়ত্ব। কালক্ষেপণ না করে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এরপর হাসপাতালের তৃতীয় তলার মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে কেটেছে দীর্ঘ ২৪টি দিন। সেখানে শিয়রে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়ার মতো কোনো স্বজন ছিল না। ছিল না একটু সুপথ্য মুখে তুলে দেওয়ার মতো আপন কেউ। নার্সদের সেবা আর হাসপাতালের চার দেয়ালের মাঝেই চলছিল হাবিবার বেঁচে থাকার আকুতি। অস্পষ্ট স্বরে তিনি শুধু জানিয়েছিলেন তার নাম হাবিবা এবং বাড়ি সম্ভবত বরিশাল জেলায়। ব্যস, এটুকুই!
আজ ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬। যখন ঘড়ির কাঁটায় বেলা ১টা, তখন সব লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন হাবিবা। যে স্বজনদের খোঁজে হয়তো তার চোখ দুটো হাসপাতালের দরজার দিকে অপলক তাকিয়ে থাকত, তারা শেষবার মুখটি দেখতেও এলো না।
বর্তমানে মরদেহের আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার প্রকৃত পরিচয় শনাক্তের আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। হয়তো বরিশালের কোনো এক গ্রামে কোনো মা তার মেয়ের পথ চেয়ে আজো জায়নামাজে বসে আছেন, কিংবা কোনো সন্তান তার মায়ের ফেরার অপেক্ষায় জানালার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু তারা জানে না, তাদের সেই আপন মানুষটি এখন যশোরের হাসপাতালের হিমঘরে নিস্পন্দ হয়ে পড়ে আছেন।
মানবিক আবেদন: মানবতার খাতিরে এই সংবাদটি সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। যদি এই বিবরণের সাথে আপনার পরিচিত কাউকে মিলিয়ে নিতে পারেন, তবে দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল অথবা যশোর কোতোয়ালি থানায় যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হলো। একটি শেয়ার হয়তো এই অজানাকে তার আপন নীড়ে পৌঁছে দিতে পারে।