নিজস্ব প্রতিবেদক
ঈদগাহ ময়দানে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জার কাজ চলছে; গতকাল রাতের চিত্র। ছবি: ফাহিম ফারহাদ
যশোর : সবুজ মাঠের চারধারে বাঁশ-খুঁটির কাঠামো আর সাজানো মঞ্চ জানান দিচ্ছে বড় কোনো আয়োজনের। যশোর শহরের ঈদগাহ ময়দান এখন রাজনৈতিক উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু। আগামীকাল মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় এখানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিশাল নির্বাচনী জনসভা। দীর্ঘদিন পর দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান যশোরে আসছেন—এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই যশোর জেলাজুড়ে এক অন্যরকম চাঞ্চল্য ও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।
শহরের মোড়ে মোড়ে এখন কেবলই প্রচারের জয়ধ্বনি। তোরণ, ব্যানার আর বাহারি ফেস্টুনে ঢেকে গেছে প্রধান প্রধান সড়ক। প্রচার মাইকের শব্দে মুখরিত অলিগলি। সাধারণ মানুষের মুখে মুখেও এখন এই জনসভার কথা। আমিরে জামায়াতের এই সফরকে ঘিরে শুধু রাজনৈতিক কর্মী নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও এক ধরণের কৌতূহল ও উদ্দীপনা কাজ করছে। কেউ কেউ বলছেন, এই জনসভা কেবল একটি দলীয় কর্মসূচি নয়, বরং যশোরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন পরিবর্তনের ইশারা।

ময়দানে ঢোকার প্রথম তোরণ- ছবি ধ্রুব নিউজ
এই বিশাল কর্মযজ্ঞের প্রস্তুতি নিয়ে গত রোববার (২৫ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টায় প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জেলা জামায়াত। সেখানে জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, আমিরে জামায়াতের এই সফরকে ঘিরে যশোরের মানুষের মধ্যে যে অভূতপূর্ব জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা আমাদের অভিভূত করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, কালকের এই সমাবেশ একটি ঐতিহাসিক জনসভায় পরিণত হবে। সংবাদ সম্মেলনে জনসভার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর প্রস্তুতির কথা জানিয়ে আশ্বস্ত করা হয় যে, জনসভা হবে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল।
নির্বাচনী আবহে এই জনসভা আরও গুরুত্ব পাচ্ছে কারণ এখানে যশোরের ৬টি সংসদীয় আসনে '১০-দলীয় জোট' সমর্থিত প্রার্থীরাও উপস্থিত থাকবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোটের এই সংহতি প্রদর্শনের মধ্যদিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নির্বাচনী মেরুকরণে বড় ধরণের প্রভাব পড়তে পারে। প্রার্থীরা সরাসরি জনগণের সামনে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আন্দোলনের রূপরেখা তুলে ধরবেন, যা নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।

ঝুলছে শহিদ আবু সাইদ আর প্রার্থীদের ফেস্টুন-ছবি ধ্রুব নিউজ
প্রেসক্লাবের ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুল কাদের, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম, গোলাম কুদ্দুস, জেলা দপ্তর সম্পাদক নুরে আলী নূর আল-মামুন এবং জেলা প্রচার সেক্রেটারি শাহাবুদ্দীন বিশ্বাস। এছাড়াও শহরের ভারপ্রাপ্ত আমির ইসমাইল হোসেন ও শহর সেক্রেটারি ইমরান হোসেনসহ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ প্রস্তুতির তদারকি করছেন। তারা জানান, যশোরের আটটি উপজেলা থেকেই সাধারণ মানুষের ঢল নামবে এই ময়দানে।
বর্তমানে ঈদগাহ ময়দানে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জার কাজ চলছে। প্যান্ডেলের নিচে অগণিত মানুষের বসার ব্যবস্থা, বিশাল মঞ্চ আর আধুনিক শব্দযন্ত্রের সংস্থাপন—সব মিলিয়ে এক মহাযজ্ঞের প্রস্তুতি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে যশোর এখন যেন এক জনসমুদ্রের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে, যেখানে ডা. শফিকুর রহমানের কন্ঠে ধ্বনিত হবে আগামী দিনের রাজনৈতিক পথনকশা।