নিজস্ব প্রতিবেদক
নারী নেত্রীদের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেন যশোর-২ (ঝিকরগাছা–চৌগাছা) আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। ছবি: ধ্রুব নিউজ
নারী নেত্রীদের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন যশোর-২ (ঝিকরগাছা–চৌগাছা) আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ।
রবিববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ক্লাব মিলনায়তনের এ সংবাদ সম্মেলনে হামলার শিকার নারী কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ অভিযোগ করে বলেন, শান্তিপূর্ণ গণসংযোগে বাধা দিতে পরিকল্পিতভাবে নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ ধরনের হামলা গণতন্ত্র ও নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ওপর সরাসরি আঘাত।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রবিবার দুপুরে ঝিকরগাছা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কীর্তিপুর গ্রামে জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা পর্যায়ের নারী নেত্রী ও কর্মীরা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১০ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র পক্ষে ভোট প্রার্থনা করতে যান। এ সময় বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়।
জামায়াত নেত্রীদের দাবি, উপজেলা যুবদলের সভাপতি আরাফাত রহমান কল্লোলের নেতৃত্বে সবুজ, আহনাত, সোহাগসহ ১৫-২০ জনের একটি দল নারী কর্মীদের পথরোধ করে মারধর করে। এতে রাফিজা, নাসিমা, কামরুন্নাহার, তুলি, বিলকিস ও জোসনাসহ একাধিক নারী কর্মী আহত হন। এর মধ্যে জোসনা ও কামরুন্নাহার গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলাকারীরা জোসনার মোবাইল ফোন ভেঙে নিয়ে যায় এবং কামরুন্নাহারের ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর মহিলা নেত্রী মিসেস শিখা বলেন, নারী কর্মীদের ওপর এ ধরনের হামলা রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও গণতন্ত্রের চরম লঙ্ঘন। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চাইতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।
ঘটনার পর জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা বলেন, নির্বাচনের আগে এমন সহিংসতা এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি করছে। তারা দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা যুবদলের সভাপতি আরাফাত রহমান কল্লোলের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।হামলায় জামায়াতের নারী কর্মী জোসনা ও কামরুন্নাহার আহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের নারী নেত্রী মিসেস শিখা জানান, পৌরসভার একটি ওয়ার্ডে আমাদের নারী কর্মী রাফিজা, নাসিমা, কামরুন্নাহার, তুলি, শাহিনা বিলকিস, জোসনাসহ মোট ১০ জনের একটি টিম শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চাইছিল। এ সময় যুবদল নেতা আরাফাত রহমান কল্লোলের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে আমাদের কর্মীদের মারধর করা হয়। আহত জোসনা ও কামরুন্নাহার চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হামলাকারীরা নারী কর্মীদের মারধর করার পাশাপাশি তাদের মোবাইল ফোন ভাঙচুর করে এবং ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায়।