❒ বাদি কৃষক দল নেতা, আসামী মুফতি আমির হামজা
ধ্রুব রিপোর্ট
শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্মানহানির নামে একসময় যথেচ্ছা মামলা হতো সারা দেশে। আওয়ামী লীগের অতি উৎসাহী নেতাকর্মীদের করা সেসব মামলার অধিকাংশ আসামি ছিলেন তারেক রহমানসহ বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। সম্প্রতি সেই ধরনের মামলা ফিরে এসেছে। জামায়াত নেতা আমির হামজার ২০২৩ সালের দেয়া বক্তৃতাকে পুঁজি করে কুষ্টিয়া, খুলনা ও সিরাজগঞ্জের পর এবার যশোরে মামলা হয়েছে। জিয়া পরিবারের অবমাননার অভিযোগে করা মামলার আসামি করা হয়েছে আলোচিত ইসলামী বক্তা ও কুষ্টিয়া-৩ আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী আমির হামজাকে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) যশোর জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও খড়কির বাসিন্দা মেহেদী হাসান জিল্লু বাদী হয়ে যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা করেন। আদালতের বিচারক আছাদুল ইসলাম অভিযোগটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম. এ. গফুর।
মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালে চট্টগ্রামে আয়োজিত একটি ওয়াজ মাহফিলে আমির হামজা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে অত্যন্ত অশালীন ও সম্মানহানিকর বক্তব্য দেন। একজন মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য শুধু কোকোর ব্যক্তিগত মর্যাদাই ক্ষুণ্ন করেনি, বরং এতে পুরো জিয়া পরিবারের সম্মানহানি হয়েছে বলে দাবি বাদীর।
বাদী মেহেদী হাসান জিল্লু জানান, গত ১৭ জানুয়ারি যশোরের লালদীঘির পাড়ে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে অবস্থানকালে তিনি অনলাইনে ওই বক্তব্যের ভিডিওটি দেখতে পান। বক্তব্য শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও হতবাক হন। তার দাবি, এ ধরনের কটূক্তি জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসী কোটি মানুষের আবেগ ও মর্যাদাকে আঘাত করেছে। এই মানহানিকর বক্তব্যের কারণে জিয়া পরিবারের প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্মানহানি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম.এ গফুর বলেন, ‘একটি বিশেষ চক্র পরিকল্পিতভাবে জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে কটূক্তি ও মানহানিকর বক্তব্য ছড়াচ্ছে। আমরা অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে মামলা করেছি। আদালত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।’
উল্লেখ্য, একই অভিযোগে আমির হামজার বিরুদ্ধে ২০ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জে জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভিপি শামীম বাদি হয়ে মামলা করেন।
এছাড়াও ১৯ জানুয়ারি খুলনার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের সোনাডাঙ্গা আমলি আদালতে মামলা করেন আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের খুলনা মহানগর সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম। ১৮ জানয়ারি কুষ্টিয়া চিফ জুডিশিয়াল আদালতে আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন ছাত্রদলের এক নেতা।
এর আগে ১৬ জানুয়ারি দিবাগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি পোস্টে আমীর হামজা জানান, সম্প্রতি আলোচিত একটি বক্তব্য সাম্প্রতিক নয়; সেটি ২০২৩ সালের। ওই বক্তব্যের জন্য সে সময়েই তিনি অনুতাপ প্রকাশ করেছিলেন বলে জানান। নতুন করে বিষয়টি আলোচনায় আসায় তিনি আবারও দুঃখ প্রকাশ করেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, মরহুম আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে দেওয়া তার বক্তব্যটি অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল। একটি বিষয় ব্যাখ্যা করতে গিয়ে উদাহরণ দিতে গিয়ে ভুল হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন এবং সে কারণেই আগেও ক্ষমা চেয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন।