ধ্রুব রিপোর্ট
শনিবার বিকেল থেকে জেলাজুড়ে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে শুরু হয়েছে চিরুনি অভিযান। ছবি: সংগৃহীত
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নাশকতামুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে যশোরে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি শুরু করেছে জেলা পুলিশ। এরই অংশ হিসেবে শনিবার বিকেল থেকে জেলাজুড়ে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে শুরু হয়েছে অভিযান। মূলত নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য অপরাধী ও অবৈধ অস্ত্রের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন।
শনিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যশোর শহরের জজকোর্ট মোড়, দড়াটানা চৌরাস্তা, মণিহার চত্বর, চাঁচড়া চেকপোস্ট ও পালবাড়ি মোড়সহ প্রধান প্রবেশপথগুলোতে একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। প্রতিটি চেকপোস্টে পুলিশের একাধিক সশস্ত্র টিম মোতায়েন করা হয়েছে। সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল আরোহী, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস থামিয়ে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি চালানো হচ্ছে দেহ তল্লাশি। নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারকেই এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কেবল শহর নয়, জেলার প্রতিটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। অভিযানে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও যানবাহনের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সন্দেহভাজন বহিরাগতদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনেক জায়গায় যানবাহনের ডিকি ও সন্দেহজনক ব্যাগ তল্লাশি করা হচ্ছে।
যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের বিশেষ নির্দেশনায় এবং আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। মাদক, অবৈধ অস্ত্র এবং চিহ্নিত অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং একটি উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করতে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান নিয়মিত চলবে।”