ধ্রুব ডেস্ক
বিস্ফোরণের ধোয়ায় অন্ধকার হয়ে যায় চারিদিক ছবি: সংগৃহীত
সাভারে ককটেল বিস্ফোরণ প্রশাসনের ইন্ধনে ঘটেছে: দাবি নাহিদ ইসলামের
সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’-পরবর্তী কর্মসূচির সমাবেশ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আজ সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভার সরকারি কলেজ মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টার দিকে সমাবেশস্থলের মঞ্চে ওঠেন এনসিপির নেতারা। এ সময় বিদ্যুৎ চলে যায়। এর মধ্যে দলের মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ অন্য নেতারা বক্তব্য দেন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর বিদ্যুৎ-সংযোগ স্বাভাবিক হয়। এ সময় মঞ্চে দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন। এর কিছুক্ষণ পরই সেখানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যা সমাবেশস্থলে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শাহীন খান্দকার (৩০), জসিম (২৬) ও শাহাদাত হোসেন (৪০)। তাদের মধ্যে শাহীন এনাম মেডিকেল কলেজের কর্মী, জসিম একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শাহাদাত হোসেন সাভারের মুক্তির মোড় এলাকার বাসিন্দা। তারা সবাই সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
ঘটনার পর বক্তব্যে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম হামলাকে ‘ন্যক্কারজনক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছে। তবে এ ধরনের হামলায় তারা ভীত নন এবং জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
ঘটনার কিছুক্ষণ পর নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে এনসিপির নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সাভার থানার সামনে যান। এ সময় থানার প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম ও আখতার হোসেন থানার ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা পুলিশি পাহারায় সেখান থেকে বেরিয়ে আহত ব্যক্তিদের দেখতে হাসপাতালের দিকে যান।
এদিকে রাত ১১টার দিকে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, হামলার ঘটনায় এনসিপির পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সোমবার রাত পৌনে ১২টার দিকে সাভারে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঢাকার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন। তিনি বলেছেন, সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে ঢাকা জেলার (উত্তর) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলমকে।

পরে থানার সামনে অবস্থান নেয় এনসিপির নেতারা : ছবি সংগৃহীত
এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে ঘটা বোমা বিস্ফোরণের পেছনে প্রশাসনের সরাসরি হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তাঁর ভাষ্যে, এটি ছিল পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টার অংশ।
সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভার থানা স্ট্যান্ড-সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে এনসিপির সমাবেশ চলাকালে বিস্ফোরণটি ঘটে। সে সময় মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছিলেন ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক প্রকৌশলী নাবিলা তাসনিদ। বিস্ফোরণের শব্দে উপস্থিত নেতাকর্মীরা আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করলে নাবিলা তাসনিদ মাইকে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
ঘটনার কিছুক্ষণ পর রাত সোয়া ১০টার দিকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজকের এই বোমা বিস্ফোরণ স্পষ্টভাবে প্রশাসনের সহায়তায় হয়েছে। সমাবেশ চলাকালে কেন বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হলো, তার ব্যাখ্যা দিতে হবে। আমাদের খুন করার পরিকল্পনা থেকেই এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে বলে আমরা মনে করি।’
গত আগস্টে সাভার থেকেই দলের কর্মসূচি সমাপ্ত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রশাসনের সহায়তায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে এই হামলার মাধ্যমে তাঁদের পদযাত্রা কর্মসূচি নস্যাৎ করার চেষ্টা হয়েছে। সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে উদ্দেশ করে তিনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার জবাবদিহি দাবি করেন।
আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিতকরণ এবং সীমান্ত সুরক্ষা ও তরুণদের কর্মসংস্থানের দাবি আদায় পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে।
পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, সভার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কাছে জানতে চান, কেন বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে গেল এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কী ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি জানান, হামলায় দলের একাধিক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং এর দ্রুত বিচার দাবি করেন তিনি। বিচার নিশ্চিত না হলে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দেন এনসিপির এই আহ্বায়ক।