নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরে গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোট। ছবি: ধ্রুব নিউজ
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যশোরে গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোট। আজ শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে শহরের ঈদগা মোড় থেকে এই গণমিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ দড়াটানা ও চিত্রা মোড় প্রদক্ষিণ করে মনিহারে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে ঈদগা মোড়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকার বিগত ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে ২৯ লক্ষ কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। আজকে বাংলাদেশ প্রায় ৩০ লক্ষ কোটি টাকার ঋণে জর্জরিত। আমরা বলতে চাই, সুষম বণ্টন ও দুর্নীতিমুক্ত একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে চেষ্টা করতে হবে।"
তিনি বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "যদি সরকারি দলের লোকেরাও ব্যর্থ হয় এবং আগের মতো আবার লুটপাটে লিপ্ত হয়, তবে এদেশের জনগণ আবারও রাজপথে নেমে আসবে—কাউকে আর ছেড়ে দেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষ বলছে, আওয়ামী লীগ যেভাবে দলীয়করণ করেছিল এবং মনে করেছিল একশো বছর ক্ষমতায় থাকবে, কিন্তু শেখ হাসিনা টিকতে পারেনি। আজ যারা ক্ষমতায় আছেন, তারাও যদি একইভাবে দলীয়করণ করে মনে করেন টিকে থাকবেন—তাহলে বাংলাদেশের জনগণ কাউকেই ক্ষমা করবে না, ইনশাআল্লাহ।"
জুলাই বিপ্লব সফল করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, "আসুন, জুলাই বিপ্লব বাস্তবায়ন ও জনগণ বাঁচানোর লক্ষ্যে যে কর্মসূচি ও আন্দোলন দেওয়া হয়েছে, তা সফল ও সার্থক করতে সর্বস্তরের জনগণকে নিয়ে আমরা রাজপথে থাকব।"
জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু জাফর সিদ্দিকী, সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস, মনিরুল ইসলাম ও শামসুজ্জামান, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবুল হাশেম রেজা এবং দপ্তর সম্পাদক নূর ই আল মামুন।
জোটের শরিক নেতাদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির জেলা প্রধান সমন্বয়কারী নুরুজ্জামান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা নেতা রাশেদুল ইসলাম, এনসিপি নেতা ইমদাদ হোসেন এবং শহর জামায়াতের আমির মাওলানা ইসমাইল হোসেনসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।