কবিতা
বিশ্বাস
বিশ্বাস না হলে হৃদয়ের লেন্স খুলে দেখো কিংবা আমার মৃত্যুকে প্রশ্ন করে দেখো
আশ্রয়ের কাঁধে মাথা রেখে আত্মাকে হত্যা করেছি বহুবার
আমার সাদা চোখকে প্রশ্ন করে দেখো নদীতে সাঁতার কাঁটার বদলে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি
পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেওয়া আমার লালটুকটুক স্বপ্ন কে প্রশ্ন করে দেখো ভেঙ্গে পড়া স্বপ্নকে গড়ে দিয়েছি কতবার?
পারো যদি পাহাড়কে প্রশ্ন করো কিভাবে পাথরের সাথে সখ্যতা গড়েছি বার বার?
জীবন মৃত্যুর মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে আঙুল উচিয়ে কতবার বলেছি
আছি তো! আছি
জনকলোহল ছেড়ে নিস্তব্ধতায় প্রশ্ন করে দেখো
স্বার্থপর পৃথিবীর ন্যাপাধরা শূন্যতায় কেমন করে শূন্যতাকে ভালোবেসে পূর্ণতায় ভরিয়েছি।
বিশ্বাস সে এক অমূল্য সম্পদের নাম
অদৃশ্য এক বন্ধনে বেঁধে রাখে অস্ত্বিত্ব।
কখনও শান্তি কখনও ধ্বংসও ডেকে আনে।
বিশ্বাস না হলে বিশ্বাসকেই প্রশ্ন ছুঁড়ে দেখো
কেমন করে খটরমটর করে ওঠে জীবনের চারপাশ।
বিধুরতা
কবিতারা মন মরা হয়ে আছে
বুকের বা পাশটা ভীষণ খালি...
ওগো রুপোলী চাঁদ তুমি পালকি নিয়ে আসো
তোমার আগমনে অমাবস্যায় পুঁড়ে যাওয়া মানুষ গুলো হাসুক।
বিচ্ছুরিত হোক সাধের শতরঙে।বেহালাবাদক সাজুক বসন্ত রঙে
ও গো লাজুক চাঁদ দেরিতে হলেও ধীর পায়ে ঘুঙুর বাজিয়ে আসো বাংলার বাউল বেশে
কিংবা মৌয়ালীর ঢংয়ে
তোমার অপেক্ষায় না হয় কাটুক আরো কয়েক যুগ
সময় টুকু স্মৃতি হয়ে থাকুক নীল, লাল,বেগুনি রঙে।
ছন্নছাড়া ঘরে না হয় ফিরে আসুক একটু নিরাবতা,
মনহারা এক অবুঝ নেশা পাক ফিরে পাক ঘরের দিশা।
ও চাঁদ তুমি পালকি নিয়ে আসো।
সমীকরণ
আমার দূরের আকাশ একলা কাঁদে
সাঙ্গ হলো বেলা
ভালোই হলো শেষ হলো
যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা।
তবুও যদি মনে পড়ে?
মনে পড়ে কখনও?
বঞ্চিত পৃথিবীর শৈল্পীক ডানায় ভরদিয়ে এসেছিলে শ্রাবণের মধ্যদুপুর...
জন্মনিলো সম্পর্কের চারাবীজ প্রকৃতির ডিম্বশায়ে
লাল নীল ফুল পাখি আঁকা পুরোনো রুমাল ছুঁড়ে ফেলে বলেছিলে চলো পালায়
টাইটানিকের জ্যাকের মতো দুহাত তুলে শেখালে ভালোবাসাবাসির বিলাসী ভ্রমরের জলচক্র,
সেই থেকে
সুখ সুখ ভাবনাগুলো ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে চলে গেলো সর্বনাশী সময়ের দিকে
এখন তোমার প্রতি দিনই শ্রাবণ
আর আমি!
নিরুদ্দেশ জোসনায় অংক কষা ভুলে গিয়ে
শিখছি অসুখের নামতা।