ইমরান হোসেন
নড়বড়ে সাঁকোর ওপর হেটে চলেছেন কেশবপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুক্তার আলী ছবি: ধ্রুব নিউজ
নড়বড়ে সাঁকোর ওপর হেটে চলেছেন কেশবপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুক্তার আলী। সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের সেই চেনা কষ্টকে তিনি আজ নিজের পায়ে অনুভব করলেন।
এই বাঁশের সাঁকোটিই দুই পাড়ের মানুষের ভাগ্যের পরিহাস। জরাজীর্ণ, নড়বড়ে একফালি বাঁশের ওপর দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ পার হয় বুক দুরুদুরু কাঁপন নিয়ে। কত অসুস্থ রোগী এই সাঁকো পার হতে গিয়ে থমকে গেছে, কত শিক্ষার্থী ভিজিয়েছে বইখাতা—তার কোনো ইয়ত্তা নেই। বছরের পর বছর ধরে সাগরদাঁড়ি ও কোমরপুরবাসীর কাছে এই সাঁকোটি মরণ ফাঁদ।
এমপির এই হেঁটে যাওয়ার দৃশ্যটি শুধু একটি পরিদর্শন ছিল না, এটি ছিল এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের পথে প্রথম পদক্ষেপ।
সাঁকো পার হয়ে ওপারে পৌঁছানোর পর উপস্থিত মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। এমপি স্থানীয়দের প্রতিটি কষ্টের কথা ধৈর্য ধরে শোনেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী এই স্থানে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন, যা আজ এমপির সরেজমিনে পরিদর্শনে এক নতুন মাত্রা পায়। মানুষের আবেগ দেখে তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ঘোষণা দেন, “সাগরদাঁড়ি ও কোমরপুর অঞ্চলের মানুষের এই দুর্ভোগ আমি নিজে দেখে গেলাম। আপনাদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এখানে একটি আধুনিক ও টেকসই ব্রিজ নির্মাণ করা এখন আমার নৈতিক দায়িত্ব। আমি কথা দিচ্ছি, দ্রুতই এর দাপ্তরিক কাজ শুরু হবে।”
সংসদ সদস্যের এই এক টুকরো আশ্বাস যেন মরুভূমিতে বৃষ্টির মতো কাজ করেছে। এলাকাবাসীর বিশ্বাস, এখানে একটি ব্রিজ নির্মিত হলে কেবল যাতায়াতই সহজ হবে না, বরং মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত সাগরদাঁড়ির পর্যটন খাতেও আসবে আমূল পরিবর্তন। কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে খুলে যাবে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।