নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি: ধ্রুব নিউজ
বাঘারপাড়ায় মহাসড়কের ওপর দিনের বেলায় যুবদল নেতা রুবেল হাসানকে (৩৯) কুপিয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনভুক্ত প্রধান আসামিসহ ঘাতক চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা চাইনিজ কুড়াল, বার্মিজ চাকু ও চাপাতি।
শনিবার সকালে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর এই অগ্রগতির তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন— বাঘারপাড়া উপজেলার তেলিধান্যপুর গ্রামের আব্দুর রউফ মোল্যার দুই ছেলে এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি মো. রাব্বি হোসেন (২০) ও ২ নম্বর আসামি মো. মারুফ হোসেন (২৩) এবং যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার মুনসেফপুর গ্রামের আমিনুর বিশ্বাসের ছেলে ৪ নম্বর আসামি মো. আসিফ হোসেন (২০)।
পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুলাই বাঘারপাড়া থানাধীন খাজুরা তেল পাম্পের পাশে মহাসড়কের ওপর বন্দবিলা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুবেল হাসানকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ঘাতকদের ধরতে তৎপর হয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক মো. ফিরোজ হোসেন ও ডিবি যশোরের উপপরিদর্শক মো. সালাউদ্দিন খানের নেতৃত্বে যৌথ টিম দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা অভিযান চালায়। অভিযানে ১ নম্বর আসামি রাব্বি ও ৪ নম্বর আসামি আসিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আটক হয় ২ নম্বর আসামি মারুফ।
আসামিদের দেওয়া গা শিউরে ওঠা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাইনিজ কুড়াল, বার্মিজ চাকু ও চাপাতি। পরবর্তীতে মামলার ৪ নম্বর আসামি মো. আসিফ হোসেন আদালতে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।