নিজস্ব প্রতিবেদক
জোতীয় সংসদের তৃতীয় অধিকবশনের ১ম দিনেই ওয়াকআউট করেন বিরোধী সংসদ সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে সোচ্চার ভূমিকা পালনের পাশাপাশি রাজপথে পর্যায়ক্রমে আন্দোলনের পরিধি বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের শুরুতেই সেই অবস্থানের সুস্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে। সরকারের নীতি ও জনজীবনের সংকট নিয়ে সংসদের ভেতরে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি মাঠের রাজনীতিতে বড় ধরণের কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী জোট।
সংসদীয় সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সারের সংকট, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মতো সরাসরি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য একটি বিশেষ অধিবেশনের অনুরোধ করেছিল বিরোধী দল। তবে সেই সুযোগ না পাওয়ায় চলতি অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বসহ বিভিন্ন বিধিতে এসব ইস্যু তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবারের বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উত্থাপন করেন বিরোধী সংসদ সদস্যরা। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের একটি জবাবকে কেন্দ্র করে তীব্র বিরোধিতা ও হইচই তৈরি হয়, যার ফলে প্রায় ১০ মিনিট সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
সরকার সমর্থিত পক্ষ থেকে বিরোধী দলের এই প্রতিক্রিয়াকে পরিকল্পিত আক্রমণ হিসেবে দেখা হলেও জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা তা অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, মন্ত্রীদের জনবিরোধী বা বিতর্কিত বক্তব্যের বিপক্ষে তাৎক্ষণিক ও যৌক্তিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া অব্যাহত থাকবে এবং দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে সংসদেই সোচ্চার থাকবেন তাঁরা।
অন্যদিকে, রাজপথের কর্মসূচি হিসেবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের আয়োজন করছে ১১-দলীয় ঐক্য। এই কর্মসূচির মূল বার্তা হলো রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কারের নিশ্চয়তা এবং বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা। জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চট্টগ্রাম ছাড়াও পরবর্তীতে রংপুর, খুলনা ও সিলেট বিভাগে লংমার্চ পালন করা হবে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে ঢাকায় বড় ধরনের মহাসমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে।
লংমার্চে মোট ছয়টি মূল দাবি কেন্দ্র করে জনমত গঠনের চেষ্টা করা হবে। এগুলো হলো: রাষ্ট্র সংস্কার সংক্রান্ত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার সম্পন্ন করা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সার-সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে দলীয়করণ বন্ধ করা।
১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, সরকারের গত ছয় মাসের কার্যক্রমে জনজীবনের সংকট ও প্রশাসনিক দুর্বলতা দৃশ্যমান হয়েছে। সংস্কার ও বিচারের দাবির সাথে অর্থনৈতিক ও নাগরিক সমস্যাগুলোকে যুক্ত করায় সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন এই রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সাম্প্রতিক বিভিন্ন সমাবেশে স্পষ্ট করেছেন যে, প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিরোধী দল আপস করবে না। সংসদে সমাধান না এলে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করার প্রত্যয় জানান তারা। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সকালে শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী ও মিরসরাই হয়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে গিয়ে প্রথম ধাপের লংমার্চ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।