নিজস্ব প্রতিবেদক
অতিথিদের সাথে সংবর্ধনাপ্রাপ্তদের একাংশ। ছবি: ধ্রুব নিউজ
নৈতিকতাহীন শিক্ষা কখনো একজন মানুষকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে না উল্লেখ করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, শুধু এ-প্লাস পাওয়া বা একাডেমিক সাফল্যই জীবনের শেষ কথা নয়; বরং মেধা, সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার সমন্বয়ে নিজেদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) যশোর শহরের পৌর কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির যশোর শহর শাখা আয়োজিত এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ (এ+) প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা ও দিকনির্দেশনা দিয়ে শিবির সভাপতি বলেন, "এসএসসিতে এ-প্লাস পেলেই লক্ষ্য পূরণ হয়ে যায় না। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতি বছর উচ্চমাধ্যমিকে গিয়ে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ ঝরে পড়ে। ভর্তিযুদ্ধ ও আগামীর চ্যালেঞ্জে টিকে থাকতে হলে আত্মতুষ্টিতে না ভুগে ধারাবাহিক পরিশ্রম চালিয়ে যেতে হবে। হাজার হাজার মেধাবীর সাথে প্রতিযোগিতা করে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলে নিজের জায়গা নিশ্চিত করতে হলে 'সেরাদের মধ্যে সেরা' হওয়ার বিকল্প নেই।" সমাজে নৈতিকতার অভাব ও পারিবারিক বন্ধন শিথিল হওয়ার চিত্রে উদ্বেগ প্রকাশ করে নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, "বাবা-মা সন্তানকে জন্ম দিলেও নৈতিকতা না শেখালে সেই মানুষ আর মানুষ থাকে না। নৈতিকতাহীন সমাজের করুণ পরিণতি হচ্ছে এভেলেবল বৃদ্ধাশ্রম ও চাইল্ড কেয়ার সেন্টারের মতো ব্যবস্থা, যেখানে সন্তানেরা বাবা-মায়ের প্রকৃত স্নেহ-আদর থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ওয়েস্টার্ন কালচারের মতো ভঙ্গুর সামাজিক বন্ধন এড়াতে হলে আমাদের ইসলামিক মূল্যবোধ ও মোরালিটির জায়গায় ফিরে আসতে হবে।"
যশোর শহর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উবায়দুল্লাহ হুসাইনের সভাপতিত্বে এবং শহর সাংগঠনিক জেলার সেক্রেটারি খালিদ ইবনে খলিলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিবিরের কেন্দ্রীয় স্কুল সম্পাদক ও যশোর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জাহেদ আহম্মেদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি রিয়াজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে যশোর শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬ শতাধিক জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে সংবর্ধনা স্মারক ও উপহারসামগ্রী তুলে দেন।