নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য এনামুল শেখ আটক ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরে কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা খলিলুর রহমানকে অচেতন করে ১২ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ নামের একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য এনামুল শেখকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর রসুলপুর বালুরমাঠ এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক এনামুল শেখ বাগেরহাট সদর উপজেলার নুনাডাঙা গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে।
আটকের পর বুধবার তাকে যশোরের আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ঘটনার সাথে নিজের সম্পৃক্ততার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল আসামির এই জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। জবানবন্দিতে এনামুল জানান, ঘটনার দিন তারা তিনজন মিলে কৌশলে ওই টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের এসআই শিবু মন্ডল জানান, ভুক্তভোগী খলিলুর রহমান কৃষি ব্যাংকের মণিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া শাখায় ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি মণিরামপুর উপজেলার বিগড়কোনা গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে যশোর শহরের ফায়ার সার্ভিস অফিসের পশ্চিম পাশে (ভোলাট্যাংক রোড) বসবাস করেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ১৯ জানুয়ারি দুপুর ১টার দিকে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কৃষি ব্যাংকের খেদাপাড়া শাখা থেকে ১২ লাখ টাকা উত্তোলন করে মোটরসাইকেলে করে তিনি যশোর শহরের বাসায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে একটি অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে তাঁর ফোনে কল আসে। কলদাতা ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার বিষয়ে কথা বলতে চাইলে খলিলুর রহমান তাকে যশোরের চাঁচড়া কাঁচাবাজার মোড়ে এসে দেখা করতে বলেন।
দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে খলিলুর রহমান চাঁচড়া কাঁচাবাজার মোড়ে পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা ২-৩ জন ব্যক্তি তাঁর কাছে আসেন। তারা তাঁর সাথে হ্যান্ডশেক করেন এবং কথাবার্তার একপর্যায়ে তাঁর মুখের সামনে ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ খ্যাত চেতনানাশক স্প্রে করেন। এতে খলিলুর রহমান তাৎক্ষণিকভাবে অস্বাভাবিক ও অচেতন হয়ে পড়েন। এই সুযোগে প্রতারক চক্রের সদস্যরা তাঁর কাছে থাকা ১২ লাখ টাকা ভর্তি ব্যাগটি নিয়ে চম্পট দেয়। কিছুক্ষণ পর চেতনা ফিরে পেয়ে তিনি দেখেন তাঁর টাকার ব্যাগটি নেই।
এ ঘটনায় পরদিন ২০ জানুয়ারি কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ব্যাংক কর্মকর্তা খলিলুর রহমান। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ এবং পরবর্তীতে ডিবি পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব পায়। তদন্তকালে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্তের পর ডিবি পুলিশ ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এনামুল শেখকে আটক করে। ঘটনার সাথে জড়িত চক্রের অপর দুই সদস্যকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।