নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর সদরের বসুন্দিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল এবং পৌরসভার সাবেক ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী সুমনসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৩৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে বসুন্দিয়া সদুল্লাপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ঢাকা উত্তর ভাষানটেক ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অপর আসামিরা হলো— উপশহর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এহসানুল হক লিটু, দেয়াড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান, রামনগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুড়লির মাহমুদুল হাসান লাইফ, নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ, জঙ্গলবাধালের বাসিন্দা নাজিম উদ্দীন, একই এলাকার বাসিন্দা আজাদ কালু, উপশহরের বাসিন্দা মনসুর, উপশহরের বাসিন্দা চিমা, নওদাগ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সালাম, ঝুমঝুমপুরের বাসিন্দা জাভেদ, বালিয়াডাঙ্গার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম, ধর্মতলার বাসিন্দা বাবু, আরবপুরের বাসিন্দা দাতাল বাবু, বাহাদুরপুরের বাসিন্দা কামরুজ্জামান, বাহাদুরপুরের বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম, কাশিমপুরের ইব্রাহিম মেম্বার, জঙ্গলবাধালের বাসিন্দা মাসুদ হোসেন, ঘুনি গ্রামের বাসিন্দা জিতু মোল্লা, রায়মানিক সরদারপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী, ঘুনি গ্রামের বাসিন্দা জিল্লুর রহমান, জঙ্গলবাধালের বাসিন্দা জিল্লুর রহমান মোল্লা, জঙ্গলবাধালের বাসিন্দা রাকিব, পদ্মবিলার বাসিন্দা সিজন, পদ্মবিলার বাসিন্দা ইসলাম, জিরাট গ্রামের বাসিন্দা ইউসুফ, চাউলিয়ার বাসিন্দা ইশা, দাইতলার বাসিন্দা আব্দুল কাদের, আমদাবাদের বাসিন্দা ডাবলু, কচুয়ার বাসিন্দা মুরাদ হোসেন, ঘুনীর বাসিন্দা আফসার বিশ্বাস, আমদাবাদের বাসিন্দা রবি, আমদাবাদের বাসিন্দা জামির, আমদাবাদের বাসিন্দা শরিফুল, পদ্মবিলার বাসিন্দা ইসলাম বিশ্বাস, পদ্মবিলার বাসিন্দা মুরাদ হোসেন, পদ্মবিলার বাসিন্দা রাজিবুল রাজিব এবং সদুল্লাপুরের বাসিন্দা আলমগীর কবির পিন্টু।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, গত ৬ জুন রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে বসুন্দিয়ায় নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে বাদী খবর পান যে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জঙ্গলবাধাল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবস্থান করছেন। তারা নাশকতার পরিকল্পনা করছেন এবং সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পরে তিনি স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, আসামিরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে পাশের ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর করছে। এ সময় তারা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রয়াত মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের ছবি ভাঙচুর করে। এ সময় বাদীসহ বিএনপির অন্য নেতাকর্মীরা চিৎকার করলে আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে তিনি থানায় এ মামলা দায়ের করেন।