নিজস্ব প্রতিবেদক
আটক কবির ও সুজা উদ্দিন ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরের চৌগাছার বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড়ের নৈশপ্রহরী আতিয়ার রহমান হত্যার ঘটনায় আটক কবির হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মাছ চুরিতে বাধা দেওয়ার বিরোধের জের ধরে মোহাম্মদ আলী তাকে ছুরিকাঘাত ও গলা কেটে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে কবির। মঙ্গলবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রিয়াজুল ইসলাম আসামির এ জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালতে জবানবন্দি দেওয়া কবির হোসেন চৌগাছার ফতেপুর গ্রামের আশাদুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাঁওড়ের অপর পাহারাদার সুজা উদ্দিনকে আটক করেছে পুলিশ।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জবানবন্দিতে কবির হোসেন জানিয়েছে, গত ২০ জুন রাতে মোহাম্মদ আলী তাকে বাঁওড়ে মাছ ধরতে নিয়ে যায়। কিছু সময় পর পাহারাদার আতিয়ার রহমান তাদের দেখে ফেলেন এবং তাদের কাছে আসেন। এ সময় মোহাম্মদ আলীর সাথে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে আতিয়ারকে ছুরিকাঘাতে জখম করা হয়। আতিয়ার মাটিতে পড়ে গেলে মোহাম্মদ আলী তাকে টেনে পাশের ঘাসের জমিতে নিয়ে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর লাশটি বাঁওড়ের ক্যানেলের কচুরিপানার মধ্যে ফেলে দিয়ে আসে।
মামলার বিবরণীতে জানা গেছে, লস্করপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড়ে নৈশপ্রহরীর চাকরি করতেন। গত ২০ জুন রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আতিয়ার রহমান বাঁওড় পাহারা দিতে যান। পরদিন বাড়ি না ফেরায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাঁওড়ের ক্যানেলের কচুরিপানার মধ্য থেকে তাঁর ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই লস্করপুর গ্রামের রাশেদ আলী বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে চৌগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত নেমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে কবির হোসেন ও বাঁওড়ের অপর পাহারাদার সুজা উদ্দিনকে আটক করে মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করে। এদের মধ্যে আটক কবির হোসেন আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ওই জবানবন্দি দেয়।