কবিতা
অন্তর খুলে দেখো
একটাই পৃথিবী আমাদের
এই পৃথিবীর স্বঘোষিত শ্রেষ্ঠ জীব বা
আশরাফুল মাখলুকাত আমরাই
যদি এ কথা বিশ্বাস করি প্রজ্ঞায়-মননে
তবে এসো সত্য ও কল্যাণের অপার সৌন্দর্যে
অবগাহন করি নিঃসঙ্কোচ
সেই যে কোন কাল থেকে এই যুদ্ধ যুদ্ধ
খেলায় প্রমত্ত হয়ে কীভাবে নিঃশেষ
হয়ে যাচ্ছি তুমি, আমি, আমরা
চোখ বন্ধ করে ধ্যানস্ত সমাধিতে সেই করুণ
বীভৎসতা কি অনুভব করেছো কখনো?
এসো এসব ভয়াল মরণ নেশা বন্ধ করে
রেঙে উঠি ভালবাসার হোলি খেলায়
আজকের শপথ হোক- কাল থেকে আর
আকাশে উড়বে না একটিও যুদ্ধবাজ বিমান
ঘাতকের হাতের শানিত অস্ত্র ফুটে উঠবে
গোলাপের বাগান হয়ে
ওহে মহাজন
তোমাদের জঘন্যতম এপিস্টিন ফাইলে
কামার্ততা, নোংরামি, বীভৎসতা না থেকে যদি
অভিমান, অনুরাগ কিম্বা
ভালবাসার ছিটেফোঁটাটিও থাকতো তাহলে কতো না সুন্দর হতো!
পৃথিবীর আগামী দিনের গল্পবেলা
হয়তো ওটা ঘৃণ্য এপিস্টিন ফাইল না হয়ে
হতে পারতো জ্যাক আর রোজের দুঃখজয়ী
পবিত্র ভালবাসার বিষাদময় টাইটানিক
এইটুকু ভাবনার জন্য একটু শুভবুদ্ধির উদয়
হোক না তোমাদের
এসো বিশ্বের শত কোটি মানুষ ফুটে উঠি
এক একটি পারিজাত কানন
যেখানে কেবলই থাকবে পাখিদের কলকাকলি
আর মৃদুল বাতাস, সুগন্ধি মন আর নিসর্গের নির্জনতা
আকাশ জুড়ে কতো আর চিৎকার করবে
এফ- ৩৫ লাইটনিং, বুরভেস্টনিক, হাইপারসনিক, ইগলা, ক্রজ মিসাইল, ড্রোন!
আর কতো ছড়াবে কালের ব্রহ্মাস্ত্র, গাইডেড বোমা!
আর কতো জেনোসাইড!
আর কতো কুরুক্ষেত্র-লঙ্কাকাণ্ড, ট্রোজান,
টার্স, পলাশী, একাত্তর!
কতো আর ভাসবো রক্তগঙ্গায় !
আর কতো দেখবো বলো
হিরোশিমা - নাগাসাকির দুঃসহনীয় দুর্দিন!
পারমাণবিক অস্ত্রের ঝঙ্কারে নয়
এসো খেলি প্রেমে, প্রেমে
ভালোবাসায়, ভালোবাসার
অমিয় চুম্বনের পরমে
শত্রুতা, হিংসা, স্বার্থ ভুলে আকাশে একবার
ওড়াও তো দেখি শান্তির কপোত
তোমাদের কি নিজেদের খুব কুৎসিত
আর ভয়ঙ্কর নরদানব মনে হয়?
যদি তাই হয় তবে একটিবার
শুধু একটিবার অন্তর খুলে দেখো
এই মহাসৃষ্টি অদৃশ্য ঈশ্বরের চেয়েও সুন্দর
অনিন্দ্যসুন্দর!
তুমিও ভীষণ ভীষণ সুন্দর
ঠিক ভোরের কোমল আলোর মতোই
হেসে উঠি লালনের পৃথিবী
দিকে দিকে অবরুদ্ধ দেখো গানের পাখিরা
মুক্ত বাতাসে উড়ছে পরাজিত জারজ কীট
সঙ্গীতা আজ রাতে এসো নক্ষত্রের গান হয়ে ভাসি
শ্যামের বাঁশি হয়ে বেজে উঠি মাতাল বৃন্দাবন
চেয়ে দেখো ঐ অজস্র ঢেউয়ের নদী
ছুটে চলে গান গেয়ে নামহীন সুদূরে
ছুঁয়ে দেবে তারে আজ আকাশের প্রেম
বাউরি বাতাস ছুঁয়েছে কৃষ্ণচূড়ার রঙ
হলুদের আল্পনা নিয়ে ফুটেছে
দেখো ঐ অলকানন্দা মন
এসো মেঘের গানে গানে
টুপটাপ বৃষ্টিফুল হয়ে ঝরি
তেজস্বী দুপুরের কাছ থেকে
শিখি কিছু আলোর বর্ণমালা
সরল বিকেলের কাছ থেকে ঘোচাই
অন্ধ মনের দৈন্য
বুকের ভেতর যারা পুষে রাখে
এক পৃথিবীর মূর্খতা ও পাপ, অন্ধত্ব ও ঘৃণা
রক্তের নেশায় কেবলই ধ্বংস ও পঙ্কিলতা
এসো নির্বোধের মর্মমূলে
নক্ষত্রের ফুলকি হয়ে ঝরি
সঙ্গীতা আমরা দু'জন আজ
হাজার পৃথিবীর প্রাণের অনুরণন
এসো প্রাণে প্রাণে সুর তুলি-
আমি তো এসেছি আউল বাউল মাটির দেউল থেকে
নিঃশ্বাসের ক্রান্তিরেখায় ঝলমলিয়ে
হেসে উঠি একতারা হাতে লালনের পৃথিবী
পরস্পর বিরোধী
উষ্ণতা বরাবর একটি রেখা কল্পনা করো
এরপর ডাইনে ঘুরে দাঁড়াও
কপালের ছায়া বরাবর চোখ রাখো
কী দেখতে পাচ্ছো?
কপাল নয়, আকাশ!
আকাশ নয় ?
তবে!
ওটা তোমার ভাগ্যরেখা ।
ভাগ্যরেখাও নয় !
যুদ্ধবিমান !
তবে কী এই যুদ্ধ, যুদ্ধ খেলায়
উধাও হতে চলেছে ভাগ্যরেখা
হাল ছেড়ো না
অন্য আকাশ খোঁজো
যেখানে কিছুটা হলেও শান্তির বাতাসে
দোদুল দোদুল দুলছে শাখা -প্রশাখা
তুমি চিৎকার করে বললে -
মানুষ আর শান্তি পরস্পর বিরোধী দুটি শব্দ