ক্রীড়া ডেস্ক
গঠিত হলো 'বাংলাদেশ টেপবল ক্রিকেট বোর্ড' ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্রিকেট মানেই কেবল লাল-সবুজ জার্সি বা মিরপুর স্টেডিয়াম নয়; বরং দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা ‘টেপবল ক্রিকেট’ হলো সাধারণ মানুষের প্রাণের খেলা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর, এই জনপ্রিয় ফরম্যাটকে একটি নির্দিষ্ট নিয়মনীতি এবং পেশাদারিত্বের আওতায় আনতে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ টেপবল ক্রিকেট বোর্ড (বিটিসিবি)।
বাংলাদেশ টেপবল ক্রিকেট বোর্ড কেবল দেশীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকছে না। সংস্থাটি ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক টেপবল কাউন্সিলের (আইটিসি) গর্বিত সদস্যপদ লাভ করেছে। এর ফলে এখন থেকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে টেপবল ক্রিকেটের যেকোনো নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত এবং বৈশ্বিক আসরগুলোতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার পথ প্রশস্ত হলো।
বিটিসিবি-এর মূল লক্ষ্য হলো টেনিস বলকে কসটেপ দিয়ে মুড়িয়ে খেলার এই চিরচেনা ধরণকে একটি আধুনিক স্পোর্টস মডেলে রূপান্তর করা। বোর্ডের প্রধান কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে:
তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণ: দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান টেপবল ক্রিকেটারদের খুঁজে বের করে তাদের জন্য যথাযথ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।
আঞ্চলিক লিগ আয়োজন: বিপিএলের আদলে বা পেশাদার ঘরোয়া লিগের মডেলে বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজন করা, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও ক্রীড়া সংস্কৃতিতে গতি আনবে।
শক্তিশালী ফ্যানবেস তৈরি: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে টেপবল ক্রিকেটের দর্শকপ্রিয়তাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, খুব শীঘ্রই তারা একটি জাতীয় টেপবল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। যেখানে দেশের সেরা দলগুলো অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় করে বিদেশের মাটিতেও দ্বিপাক্ষিক ও বহুজাতিক সিরিজে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা যাচাই করছে বিটিসিবি।
২০২৬ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে দেখা যায়, বাংলাদেশে ক্রিকেটের অন্যান্য ফরম্যাটের চেয়েও টেপবল ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা এবং অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বহুগুণ বেশি। কিন্তু কোনো অভিভাবক সংস্থা না থাকায় এতদিন এই প্রতিভাগুলো সঠিক দিকনির্দেশনা পায়নি। বিটিসিবি-এর আগমনে এখন খেলোয়াড়রা কেবল শখের বশেই নয়, বরং পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবেও নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখতে পারবেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ টেপবল ক্রিকেট বোর্ড গঠনের এই সিদ্ধান্ত দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। এটি কেবল খেলার প্রসারই ঘটাবে না, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ব্র্যান্ড ভ্যালুকে আরও সমৃদ্ধ করবে।