আমি ও সে
আমি অভিমানী হ'লে দুরন্ত বাতাসে উড়াই
কালো এলো কেশ, রাগ হ'লে বিশ্রী আচরণে
উড়াই যত জঞ্জাল-আবর্জনা,
পথের ধুলো উড়িয়ে কেঁদে ভিজাই পথ,
আমি লজ্জায় রাঙি অস্তাচল অরুণাভে,
আমি হাসি কোনো পূর্ণিমা রাতে
জোছনা স্নাত সুবজ পত্ররাজি'র
চিকচিক দোলো দোলে ফাঁকে।
উদাস রাতের কান্না শুনি টুপটাপ শব্দ
ধীর হতে ধীরে, ধীর হতে ধীর নিশ্চুপ
একাকী উদাস রাত, রাতের আকাশ।
অথচ: তুমি অভিমানী হ'লে কত কথা বলে
ডাকো আমায়,
ভোরের অক্লান্ত দোয়েলের শিসে,
রেগে গেলে একদম নিরব দুরন্ত দুপুর
ঘামে ভেজা অপেক্ষার লাল মুখ।
তবুও
আরো কত বেশি নিশ্চুপ উদাস হ'লে
তুমি আমাকে শুধাবে,
এত কী ভাবছো তুমি বসে?
তোমাকে ভালোবেসে কতখানি ক্লান্ত হলে
তুমি অবাক বিস্মিত চোখে
একটুখানি অনিচ্ছাতে তাকিয়ে
কিছু খুঁজবে আমার ঘামে ভেজা ক্লান্ত মুখ,
কষ্টের লাল চোখে?
তোমাকে ভেবে কত বিনিদ্র রজনী পার হলে,
কত অভিসারী ইচ্ছার বারবার মৃত্যু হ'লে
পাশের বাড়ির উঠোনে চুপিসারে দাঁড়িয়ে
তুমি জানতে চাইবে না কারো কাছে
আমি কেমন আছি,
আসতে চাইবে না কাছে।
হতাশার কালো মেঘে যদি ওঠে লণ্ডভণ্ড ঝড়,
একাকী বিষন্ন সাঁঝেরবাতি যায় নিভে
খুব জানতে ইচ্ছে হবে তার আগে,
কফোঁটা চোখের পানি
গড়িয়েছিলো তোমার চিবুক প্রান্ত ছুঁয়ে?
নীরব নিথর প্রস্হানে পেতে দেবো দেহ,
প্রশান্তির প্রজ্বলিত পথে।
পারলে আমার বিজয় পতাকা রেখে দিও না
তোমার বেনারসি-র আঁচলে বেঁধে।
হঠাৎ পথ
জীবন চলার হঠাৎ পথে কোন একদিন
দেখা হবে আমার স্বপ্নে আসা ভালোবাসার সাথে।
ভীষণ উচ্ছ্বাস, কেমন যেন উত্তেজিত অপেক্ষার
চোখে চোখে কথা হবে,
কাঁপা কাঁপা ঠোঁটে ঠোঁটে কথা হবে,
বলতে না পারা ভালোলাগার
ভাবাবেগে সজল চিকচিক হবে চারচোখ।
হাতের অস্থির আঙুল মৃদু মৃদু কাঁপবে
অদ্ভুত স্পর্শ ইচ্ছায়,
দ্রুত নিশ্বাসের ঊষ্ণ আবেশ জড়িয়ে
ছড়িয়ে পড়বে হৃদয়ের স্পন্দিত ছন্দে।
কবে দেখা হবে সেই সুখ সাধনা
স্বপ্ন আঁকা ভালোবাসার সাথে?
আমি চলতে থাকি, খুঁজতে থাকি
কোনো রেলওয়ে জংশনের বিশ্রামাগারে,
প্লাটফর্মে।
আমি ক্লান্ত হই বিমান বন্দরের যাত্রী কক্ষে,
বাস টার্মিনাল, লঞ্চ ঘাটের পাটাতনে,
অথবা কোনো নিঝুম পল্লীর মাটির ঘরে
মিটি মিটি আলো জ্বলা সাঁঝের হেতনেই,
না হ'লে সবুজ কিম্বা পাকা ধানের আলপথে।
যদি দেখা না হয় আমার কল্প গাঁথা তার সাথে
দ্রোহের আগুন হয়ে জ্বালিয়ে …