বৈশাখী মেলা
ডায়েরির পাতাগুলো আরো একবার উল্টে দেখি। দেখি কোথায় পহেলা বৈশাখ, কোথায় অথই জলের ধারা। কোথায় রাজশাহীর মেয়েগুলোর মুগ্ধ কোলাহল। কেনইবা সুস্মিতা বলে ডাক দিলে হেসে দেয় স্পর্শিতা নামের অভিমানী বালিকা।
ল্যাপটপে মনোযোগ, মোবাইল ফোনে এসএমএস, শিলাইদহের কুঠিবাড়ি, লালন শাহের মাজার সব আজ একাকার হয় সাহেব বাড়ির বৈশাখী মেলায়। আজ বুঝি ঝড় হবে, আজ বুঝি বাউরি বাতাসে ফের দিগভ্রান্ত হবে মেলায় বেড়াতে আসা দূরের পথিক।
মায়া
অন্দরমহলে ঢোকার আগে কতকিছু দেখে নিতে হয়। নদীপাড়ের মানুষ, অসহায় বেদেনীর মুখ, সাহেব বাড়ির গেট, নির্জনতা থেকে বাঁচবার জন্য যাত্রাদলের নায়িকার আঁচল ধরে কেঁদে ফেলা।
অবসরে যাইনি কখনো। অন্দরমহলে ঢোকার আগে তাই মনভরে দেখে নিই দূরের আকাশ, শীতের রোদ্দুর, অদিতির বাঁধভাঙা হাসি,সিংহ -দরোজায় কারুকাজ করা ময়ূরের নাচ, খেয়ালী সংঘের নাটকের রিহার্সেল।
অন্দরমহলে কে অপেক্ষা করে? কাজীদের মেয়ে? শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাস? গরম কফির ঘ্রাণ? রুদ্র ভাই? রুদ্র ভাই?
কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই আসরের আজান দেয় মসজিদে মসজিদে। অন্দরমহলে ছলাৎ ছলাৎ করে সাথীহারা ঢেউ।
মোহ
যশোরের চটপটে মেয়ে ভুলে গেছে সব। দিনাজপুরের কান্তজী মন্দির, বগুড়ার মহাস্থান গড়, পাহাড়পুরের বৌদ্ধবিহার, বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদের পাশ দিয়ে যাবার সময় হাত ছুঁয়ে বলা সব কথা। বলেছিল, গোপন থাকুক সব। গোপন থাকুক রোকেয়া হলের পেছনে গাছের নিচে বসে চুমু খাওয়ার দিন।
যশোরের চটপটে মেয়ে ভুলে গেছে সব। ভুলে গেছে লালন মেলার সন্ধ্যা, ভুলে গেছে শিলাইদহের রবীন্দ্র কুঠিবাড়ীতে বেগুনি রঙের শাড়ি পরে আঁচল মেলে ধরার মুহূর্ত।
আমি গাধা ভুলিনি কিছুই। সীতাকুণ্ড পাহাড়ের গায়ে লিখে রাখি যশোরের চটপটে মেয়েটির নাম। চট্টগ্রাম নগরের চেরাগী পাহাড় মোড়ে আড্ডা দিতে দিতে আচমকা বলে ফেলি যশোরের গোলগাল মেয়েটির প্রতিশ্রুতি।