সাইফুল ইসলাম
যশোর জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ছবি: ধ্রুব নিউজ
৯ মাস বয়সী শিশু সাদিয়ার শরীরজুড়ে এখন যন্ত্রণার লাল লাল গুটি বা র্যাশ। প্রথমে সাধারণ জ্বর ও ঠান্ডা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও গত তিন দিন ধরে হামের তীব্র প্রকোপে তার জ্বরের মাত্রা আরও বেড়েছে। সাদিয়ার মা সাগরিকা জানান, যন্ত্রণায় শিশুটি এখন কিছুই খেতে পারছে না; চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে বর্তমানে স্যালাইন ও বিশেষ ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। শুধু সাদিয়াই নয়, চার মাস বয়সী মাহিরার শরীরেও নিউমোনিয়ার চিকিৎসার মাঝেই ফুটে উঠেছে হামের লক্ষণ। মাহিরার পিতা তামিম হোসেন জানান, নিয়মিত সব টিকা দিলেও অসুস্থতার কারণে শেষ টিকাটি দেওয়া সম্ভব হয়নি, আর এরই মাঝে জেঁকে বসেছে এই ভাইরাস। যশোরে হামের এই প্রাদুর্ভাব এখন এমনই উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে যে, চলতি মার্চ মাসেই যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ২২টি শিশু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ জন শিশুরই বয়স নয় মাসের কম, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
সাধারণত নিয়মানুযায়ী ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের হামের টিকা দেওয়ার সুযোগ নেই; তারা মায়ের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি থেকেই সুরক্ষা পাওয়ার কথা। কিন্তু কেন এই শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে, তা এখন অধিকতর গবেষণার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শিরিন সুলতানা জানান, বর্তমানে হাসপাতালে হাম ও পক্স আক্রান্ত রোগীর চাপ এতই বেশি যে তিল ধারণের জায়গা থাকছে না। আগে এই রোগের চিকিৎসা বাড়িতেই হতো, কিন্তু এখন সংক্রমণের তীব্রতা, শ্বাসকষ্ট এবং খিঁচুনিসহ নানা জটিলতা দেখা দেওয়ায় রোগীরা হাসপাতালে ভিড় করছেন।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের রেজিস্ট্রার ডা. আফসার আলী জানান, গত তিন মাসে ৪৫ জন শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও কিছু ক্ষেত্রে টিকা নেওয়ার পরও সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালে ইতিমধ্যে আইসোলেশন ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রচলিত ডায়রিয়া ওয়ার্ডকেই বর্তমানে আইসোলেশন ওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে হাম ও পক্সের রোগীদের জন্য আলাদা দুটি কেবিন ডেডিকেটেড করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, হাসপাতালে আসা সন্দেহজনক রোগীদের পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে এবং নিশ্চিত হওয়া মাত্রই তাদের আইসোলেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। মূলত জনসচেতনতার অভাব এবং সঠিক সময়ে টিকার বিষয়ে অনাগ্রহ এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে বলে তিনি মনে করেন।