Ad for sale 990 x 90 Position (1)
Position (1)
শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
Ad for sale 870 x 100 Position (2)
Position (2)

যশোরে প্রতিমন্ত্রীর অভিযানে বেরিয়ে এলো পাম্প ও গ্রাহক পর্যায়ের ভয়াবহ অনিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৭ মার্চ,২০২৬, ১০:৪৬ পিএম
যশোরে প্রতিমন্ত্রীর অভিযানে বেরিয়ে এলো পাম্প ও গ্রাহক পর্যায়ের ভয়াবহ অনিয়ম

যশোর : যশোরে তেলের বাজারে চলমান কৃত্রিম সংকট কি কেবল সরবরাহের ঘাটতি, নাকি এর পেছনে রয়েছে গভীর কোনো অনিয়ম? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বেরিয়ে এলো পাম্প কর্তৃপক্ষের হিসাববহির্ভূত বিকিকিনি এবং সাধারণ গ্রাহকদের তেল মজুতের এক অদ্ভুত চিত্র। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে যশোর শহরের দুটি পেট্রোল পাম্পে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের আকস্মিক অভিযানে এই ‘তেলেসমাতি’র নেপথ্য কারণগুলো স্পষ্ট হয়েছে।

অভিযানকালে দেখা যায়, পাম্পগুলোতে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও তা বিক্রির কোনো বিধিবদ্ধ রেকর্ড বা মেমো নেই। বিশেষ করে 'যাত্রীক পেট্রোলিয়াম' ও 'মেসার্স মনির উদ্দিন আহম্মদ' পাম্প দুটিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী দেখেন, প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার তেল বিক্রি হলেও ভলিউম বুক বা রেজিস্টার খাতায় তার কোনো উল্লেখ নেই। এমনকি ক্রেতাদের মেমো না দিয়ে তেল সরবরাহ করার ফলে এই জ্বালানি প্রকৃত যানবাহনে যাচ্ছে নাকি কালোবাজারে পাচার হচ্ছে, তা তদারকি করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।

প্রতিমন্ত্রী বিষয়টিকে ‘রাজস্ব ফাঁকি ও পরিকল্পিত অনিয়ম’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। পাম্প কর্তৃপক্ষ ক্রেতাদের মেমো নিতে অনীহার অজুহাত দিলেও প্রতিমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী মেমো ছাড়া এক লিটার তেল বিক্রিও দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অনিয়ম খতিয়ে দেখতে তিনি তৎক্ষণাৎ যশোরের জেলা প্রশাসক আশেক হাসানকে ফোনে নির্দেশ দেন যাতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তবে অভিযানের সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে আসে পাম্পের মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীদের বক্তব্যে। তারা জানান, তেলের এই সংকটের পেছনে বড় একটি কারণ হলো সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত মজুত। অনেক মোটরসাইকেল চালক দিনে একাধিকবার পাম্পে এসে ট্যাংকি পূর্ণ করে তেল নিচ্ছেন এবং বাড়িতে গিয়ে তা বোতলজাত করে রেখে আবার খালি ট্যাংকি নিয়ে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। এই কৃত্রিম চাহিদার চাপে সাধারণ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। কর্মচারীরা আরও সতর্ক করেন, এভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে পেট্রোল বা অকটেন মজুত করলে তার গুণমান নষ্ট হয়ে যায়, যা পরবর্তীতে ইঞ্জিনের বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

অভিযান শেষে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন—জ্বালানি তেল একটি কৌশলগত রাষ্ট্রীয় সম্পদ। এর অপব্যবহার, মজুতদারি বা বিক্রয় তথ্যে লুকোচুরি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

 

ধ্রুব নিউজের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

💬 Comments

Login | Register
Ad for sale 270 x 225 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 990 x 90 Position (4)
Position (4)