শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি
ছবি: ধ্রুব নিউজ
যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশি ইউনিয়নে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলা ও ফুটবল টুর্নামেন্ট। হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা এবং যুবসমাজকে সুস্থ ধারার বিনোদনে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটন। গত শুক্রবার উলাশি ইউনিয়নের এই আয়োজনে স্থানীয় জনতা ও ক্রীড়াপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় বিরাজ করছিল এক উৎসবমুখর আমেজ।
আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ খেলাধুলা ও ফুটবলের এই আসর দেখতে আশপাশের গ্রামগুলো থেকে শত শত মানুষ ভিড় জমান। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন পর এমন প্রাণবন্ত আয়োজন তাদের মনে গ্রামীণ সংস্কৃতির স্মৃতি জাগিয়ে তুলেছে। মাঠের চারপাশ ছিল কানায় কানায় পূর্ণ, যা প্রমাণ করে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে এখনো গ্রামীণ ক্রীড়া কতটা গভীর জায়গা জুড়ে আছে।
টুর্নামেন্ট পরিদর্শনকালে আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটন তার বক্তব্যে খেলাধুলার সামাজিক গুরুত্বের ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, "বর্তমান সময়ে যুবসমাজকে মাদক, মোবাইল আসক্তি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। গ্রামীণ খেলাধুলা আমাদের ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি কেবল বিনোদন নয়, বরং নতুন প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলার শক্তিশালী মাধ্যম।" তিনি আরও যোগ করেন, একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়তে পাড়ায় পাড়ায় নিয়মিত এ ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা অপরিহার্য।
অনুষ্ঠানে শার্শা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শহীদের নেতৃত্বে স্থানীয় যুবদল ও বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তরুণদের সুপথে রাখা এবং তাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের লক্ষ্যেই এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। বক্তারা আয়োজকদের এই মহতী উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, গ্রামীণ খেলাধুলা ফিরিয়ে আনা সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনের একটি বড় ধাপ। তরুণদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এবং একতাবদ্ধ করতে ফুটবল ও গ্রামীণ ক্রীড়া যে ভূমিকা রাখছে, তা সত্যিই অতুলনীয়।
দিনের শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, গ্রামীণ জনপদের এই প্রাণের মেলা যেন প্রতি বছর আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হয়। মাদকমুক্ত ও সুস্থ সমাজ গঠনে ক্রীড়াঙ্গনের এই জাগরণ শার্শার প্রতিটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়বে—এমনই স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।